চকলেটের লোভে পাহাড়ে নিয়ে আট বছরের শিশুকে হত্যাচেষ্টা, প্রতিবেশী গ্রেফতার
চকলেটের লোভে শিশু হত্যাচেষ্টা, প্রতিবেশী গ্রেফতার

পারিবারিক বিরোধের জেরে শিশু হত্যাচেষ্টার মর্মান্তিক ঘটনা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী বাবু শেখ (৪৫) চকলেটের লোভ দেখিয়ে আট বছরের এক শিশুকে বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় এবং চিৎকার করলে তাকে মারধর ও গলায় ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে শিশুটিকে মারা গেছে ভেবে ফেলে রেখে চলে আসে অভিযুক্ত।

পুলিশ সুপারের সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত প্রকাশ

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাতে সীতাকুণ্ড থানায় সংবাদ সম্মেলন করে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানান। তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িত মূল অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্ত গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জের বাসিন্দা হলেও সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকায় বসবাস করে।

ঘটনার সময় ও স্থান

এই ভয়াবহ ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার (১ মার্চ) সকালে। সীতাকুণ্ডের বোটানিক্যাল গার্ডেন ও ইকোপার্কের ভেতরে থাকা সহস্রধারা ঝরনা থেকে আনুমানিক ৫০০ মিটার উত্তরে পাহাড়ি পথের ধারে শিশুটিকে নির্যাতন করা হয়।

শিশুটির উদ্ধার ও চিকিৎসা

পুলিশ সুপার জানান, সড়ক সংস্কারের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা গুরুতর আহত শিশুটিকে উদ্ধার করে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দেন। পরে পুলিশ গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। অবস্থা গুরুতর দেখে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দুর্ভাগ্যবশত, মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটি মারা যায়।

মামলা ও তদন্ত প্রক্রিয়া

এ ঘটনায় ১ মার্চ সীতাকুণ্ড মডেল থানায় নারী নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। থানা পুলিশ মামলাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে। এসপি বলেন, ‘মেয়েটির বাড়ি কুমিরা থেকে ঘটনাস্থল সীতাকুণ্ডের পাহাড় পর্যন্ত রাস্তার প্রত্যেকটি জায়গার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হয়। পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সুবিধা নিয়ে তদন্ত চালানো হয়।’

গ্রেফতার ও স্বীকারোক্তি

তদন্তের এক পর্যায়ে সোমবার দুপুর ১২টায় কুমিরা থেকে অভিযুক্ত বাবু শেখকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ পুলিশকে জানায়, ভিকটিমের বাবা রিকশাচালক মনির হোসেনের সঙ্গে তার দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। বিরোধের জের হিসেবে সে মনিরের মেয়েকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে।

বাবু শেখের বর্ণনা অনুযায়ী:

  • ঘটনার দিন আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে মেয়েটিকে চকলেট দেওয়ার এবং বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে আনে।
  • প্রথমে তারা কুমিরা থেকে বাসে করে সীতাকুণ্ড বাস স্টেশন পর্যন্ত আসে।
  • সেখান থেকে হেঁটে সীতাকুণ্ডের ইকো পার্কের জঙ্গলে নিয়ে যায়।
  • সেখানে নিয়ে প্রথমে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
  • মেয়েটি চিৎকার শুরু করলে তার মুখ চেপে ধরে এবং চাকু দিয়ে গলা কেটে ফেলে।
  • এরপর মেয়েটি মারা গেছে ভেবে তাকে ফেলে রেখে চলে আসে।

অন্যান্য প্রমাণ উদ্ধার

পুলিশ সুপার আরও বলেন, বাবু শেখকে গ্রেফতারের পর তাকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়। তার দেখানো মতে মেয়েটির রক্তমাখা সালোয়ার উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি যে চকলেটের লোভ দেখানো হয়েছিল, সেই চকলেটও উদ্ধার করা হয়।

ধর্ষণ চেষ্টার বিষয়ে বিতর্ক

ধর্ষণের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদে বাবু শেখ জানিয়েছে, মেয়েটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে, তবে ধর্ষণ করেনি। পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া গেলে এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা সে বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সুপার নিশ্চিত করেছেন।