সীতাকুণ্ডে শিশু হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার, ধর্ষণচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা
সীতাকুণ্ডে শিশু হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার, ধর্ষণচেষ্টার পর গলা কাটা

সীতাকুণ্ডে শিশু হত্যার মূল আসামি গ্রেপ্তার, ধর্ষণচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি মর্মান্তিক শিশু হত্যা চেষ্টার ঘটনায় মূল আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। প্রতিবেশী বাবু শেখ ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে শিশুটির গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেন। শিশুটি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

গত রোববার সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ের জঙ্গল থেকে গলা কাটা অবস্থায় একটি শিশু উদ্ধার করা হয়। শিশুটিকে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা শুরু থেকেই এটিকে ধর্ষণচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন। শিশুটি সোমবার দিবাগত রাত তিনটায় হাসপাতালে মারা যায়।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি বাবু শেখ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, শিশুটির পরিবার ও তার পরিবার প্রতিবেশী হওয়ায় তাদের মধ্যে নিয়মিত বিরোধ লেগে থাকত। কোনো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তিনি শিশুটিকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। গত রোববার তিনি শিশুটিকে চকলেটের লোভ দেখিয়ে চন্দ্রনাথ পাহাড়ে নিয়ে যান।

ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার চেষ্টা

জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ নাজির আহমেদ খান এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাবু শেখ প্রথমে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। শিশুটির চিৎকারে তিনি ব্যর্থ হলে পরে ছুরি দিয়ে তার গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেন। মৃত ভেবে তিনি শিশুটিকে পাহাড়ের খাদে ফেলে চলে যান। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ শিশুটির জুতা, সালোয়ার ও চকলেট উদ্ধার করে।

চন্দ্রনাথ মন্দির এলাকার সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া গেছে। পুলিশ ইকোপার্কের গহিন পাহাড়ে ওঠার সব কটি পথের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। এরপর চন্দ্রনাথ পাহাড়ে ওঠার সড়কের একটি সিসি ক্যামেরার সূত্র ধরে আজ মঙ্গলবার সকালে বাবু শেখকে উপজেলার কুমিরা ইউনিয়নের ছোট কুমিরা কাজীপাড়া এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চিকিৎসা ও মৃত্যু

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেলে নেওয়া হয়, যেখানে সাধারণত ধর্ষণের সম্ভাব্য আলামত সংগ্রহ করা হয়। তবে শিশুটির শারীরিক দুর্বলতা থাকায় সে ধরনের আলামত সংগ্রহ করা যায়নি। শিশুটির শরীর থেকে সম্ভাব্য সব ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

চিকিৎসকেরা জানান, শিশুটিকে যখন আনা হয়, তখন তার শ্বাসনালি কাটা ছিল। অস্ত্রোপচারের পর তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়, কিন্তু পরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

মামলা ও তদন্ত

উদ্ধারের দিনই শিশুটির মা বাদী হয়ে অপহরণ ও হত্যাচেষ্টার মামলা করেছিলেন। শিশুটি মারা যাওয়ার পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। পুলিশ এখন তদন্ত জোরদার করেছে এবং আসামির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছে।

এই ঘটনা সীতাকুণ্ড এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং স্থানীয়রা শিশু সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানাচ্ছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।