ফরিদপুরে মাদক বিরোধে কুপিয়ে হত্যা: নিহত রাজু শেখের স্ত্রীর আহাজারি, পুলিশ তিনজন আটক
ফরিদপুরে মাদক বিরোধে কুপিয়ে হত্যা, পুলিশ তিনজন আটক

ফরিদপুরে মাদক বিরোধের জেরে কুপিয়ে হত্যা: নিহতের পরিবারের মর্মান্তিক আহাজারি

ফরিদপুর সদর উপজেলার কুটিবাড়ি মহল্লার স্টেশন বাজার মুসলিম কলোনি এলাকায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে রাজু শেখ (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে এই ঘটনা ঘটে এবং রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক ব্যবসায়ী শিল্পী বেগমের জামাতা হৃদয় শেখ এবং তাঁর চার থেকে পাঁচজন সহযোগী চাপাতি ও রামদাসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে রাজু শেখের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা রাজুর দুই পা ও ডান হাতের বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে যায়। প্রায় ১০ মিনিট পর এলাকাবাসী তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন, কিন্তু চিকিৎসায় সাড়া না দিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

পরিবারের বেদনাদায়ক অভিযোগ

নিহত রাজু শেখের মা ছবি বেগম বলেন, ‘কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর অভিযানে শিল্পী বেগমকে আটক করা হয়েছিল। রাজুকে সেই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহ করে হৃদয় এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’ রাজুর ছেলে নীরব আরও মর্মান্তিক বিবরণ দেন: ‘হামলাকারীরা প্রথমে আমার বাবার চোখেমুখে হলুদের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। পরে তাঁকে কুপিয়ে জখম করে এবং পায়ের রগ কেটে দেয়।’ রাজুর বাবা বাবলু কসাই বিচার দাবি করে বলেন, ‘আমার ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই। বিচার না হলে এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলবে।’

পুলিশের তদন্ত ও ব্যবস্থা

ফরিদপুরের পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘মাদকসংক্রান্ত বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হৃদয় শেখ একজন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, যাকে আগেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’ তিনি জানান, পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে এবং এ পর্যন্ত তিনজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। এজাহার পাওয়ার পর দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের জন্য সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।

পুলিশ সুপার আরও উল্লেখ করেন, ‘ফরিদপুর রেলস্টেশন কলোনি ও বস্তি এলাকায় মাদকের কারবার হয় বলে আমরা জানতে পেরেছি। এই এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা করে গ্রেপ্তারের অভিযান শুরু হবে।’ রাজুর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ

এই হত্যাকাণ্ড স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। মাদক বিরোধের কারণে সহিংসতা বৃদ্ধি নিয়ে অনেকেই শঙ্কা প্রকাশ করছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এলাকাবাসীরা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।