বরিশালে কিশোরী গৃহকর্মীর উপর নৃশংস নির্যাতন: গরম পানি ঢেলে দগ্ধ করায় নারী কারাগারে
বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জে এক কিশোরী গৃহকর্মীর শরীরে গরম পানি ঢেলে দগ্ধ করার মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয় এক নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় ১৪ বছর বয়সী লামিয়া নামের ওই গৃহকর্মী বর্তমানে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে মেহেন্দীগঞ্জ পৌরসভার চরহোগলা এলাকার একটি বাসা থেকে অভিযুক্ত ফাইজা আক্তারকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ফাইজা আক্তার স্থানীয় প্রবাসী জহির তালুকদারের স্ত্রী হিসেবে পরিচিত। ভুক্তভোগী লামিয়া জানিয়েছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই প্রবাসীর বাড়িতে কাজ করছিলেন এবং বিভিন্ন অজুহাতে তাকে মারধরের শিকার হতে হতো।
গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গৃহকর্ত্রী ফাইজা লামিয়ার শরীরে গরম পানি ঢেলে দেন। এই নৃশংস ঘটনায় লামিয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থান গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়। পরের দিন শুক্রবার লামিয়া পালিয়ে গিয়ে তার মামা সিরাজুল ইসলামের কাছে আশ্রয় নেন এবং পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও গ্রেফতার
সংবাদ পেয়ে মেহেন্দীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মোশারেফ হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ টিম চরহোগলা এলাকায় স্বর্ণা বেকারির পাশের একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে ফাইজা আক্তারকে গ্রেফতার করে। মেহেন্দীগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, গৃহকর্মী নির্যাতনের এই ঘটনায় একটি মামলা নেওয়া হয়েছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসা অবস্থা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ইমরানুল হক জানিয়েছেন, লামিয়া একটি বাসায় কাজ করতেন এবং সেখানে তাকে নিয়মিত অত্যাচারের শিকার হতে হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। গরম পানির কারণে কিশোরীর এক হাতে বেশি মাত্রায় এবং অপর হাতে কিছুটা কম দগ্ধ হওয়ার চিহ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছে। চিকিৎসকরা তার অবস্থার উপর নিবিড় নজর রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করছেন।
এই ঘটনা শিশু শ্রম ও গৃহকর্মী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও,此类 ঘটনা প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদী উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছেন মানবাধিকার কর্মীরা।
