নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরী হত্যা: পাঁচজন গ্রেপ্তার, নয়জন আসামি
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ার জেরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে তুলে নিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাতে নিহত কিশোরীর মা বাদী হয়ে মাধবদী থানায় এই মামলা করেন। একই রাতে জেলা পুলিশ ও র্যাব-১১ সিপিএসসি নরসিংদীর যৌথ অভিযানে মাধবদীর কোতালীরচর হোসেন বাজার এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের পরিচয়
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কোতালীরচর এলাকার মৃত সাহাবুদ্দিনের ছেলে মো. এবাদুল্লাহ (৪০), একই এলাকার মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব (৩০), হোসেন বাজার এলাকার মৃত মজিবুর রহমানের ছেলে গাফফার (৩৪), মহিষাশুরা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫) এবং তাঁর ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২)।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, মামলায় নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যদের ধরতে অভিযান চলছে।
কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার
এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে মহিষাশুরা ইউনিয়নের কোতালিরচর দড়িকান্দী এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেত থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় আমেনা আক্তার (১৫) নামে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পটভূমি
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহতের বাবা আশরাফ হোসেন বরিশালের বাসিন্দা। কাজের সূত্রে তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মাধবদীর বিলপাড় এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। প্রায় ১৫ দিন আগে স্থানীয় কয়েকজন যুবক মেয়েটিকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করা হয়।
গত বুধবার রাত ৯টার দিকে ভুক্তভোগীকে নিয়ে তার খালার বাড়ি যাচ্ছিলেন তার বাবা। বড়ইতলা এলাকায় পৌঁছালে পাঁচ যুবক মেয়েটিকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও না পেয়ে পরিবার বাড়ি ফিরে যায়। পরদিন সকালে সরিষা ক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
