রাজশাহীতে জমি বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে নিহত তরুণ
রাজশাহী নগরের পবা রাইসমিলপাড়া এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে এক তরুণকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার বেলা দেড়টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন মো. সাব্বির (২১)। ঘটনার পরপরই তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমি বিক্রি নিয়ে বিরোধ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জমি বিক্রি নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে চলমান বিরোধ দায়ী। সম্প্রতি আমিরুল ইসলামের স্ত্রী শিরিন বেগম তাঁর আধা কাঠা জমি সাব্বিরের বাবা শাহিন ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। এই জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে তিক্ততা তৈরি হয়।
অভিযোগ আছে, শিরিন বেগমের ছেলে মো. জাসন (২৫) এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছিলেন। হত্যার আগের দিন তিনি শাহিন ইসলামকে মারধর করেন। বুধবার দুপুরে সাব্বির নামাজ পড়তে বের হলে বাড়ির সামনে তাঁকে ছুরিকাঘাত করা হয়। জাসন ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান।
প্রধান আসামি গ্রেপ্তার ও ছুরি উদ্ধার
হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সন্ধ্যায় এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তাঁরা টায়ার ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে হত্যাকারীর গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
রাত পৌনে ১০টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র উপপুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) গাজিউর রহমান জানান, শাহ মখদুম থানা-পুলিশ পবা উপজেলার চর খিদিরপুর এলাকা থেকে প্রধান আসামি মো. জাসনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে হাজির করা হবে।
পুলিশের তৎপরতা ও পরিবারের আহাজারি
শাহ মখদুম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, ঘটনার পরপরই আসামিকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। তাঁকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। হত্যা মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।
নিহত তরুণের বোন শ্রাবন্তী বলেন, ‘আমার ভাইয়ের হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি চাই।’ পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে এলাকা মাতমে ভরে উঠেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রতি ও শান্তি বিনষ্ট হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।
রাজশাহী নগরে এই ধরনের সহিংসতা বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। তাঁরা দ্রুত বিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আরও জড়িত থাকতে পারে এমন ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চলছে।
