জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা
জাবি ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নির্যাতন-ধর্ষণ, মামলা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে বাসায় ডেকে নিয়ে নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। আজ বুধবার ভুক্তভোগী ছাত্রী বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলাটি করেন। আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে মামলা করেছেন এবং মামলায় ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ এখন আসামি ধরার চেষ্টা করছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রীর অবস্থা ও চিকিৎসা

ভুক্তভোগী ছাত্রী বর্তমানে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আছেন। তাঁর শারীরিক ও মানসিক অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ঘটনার পর জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল পেয়ে আশুলিয়া থানার পুলিশ ভুক্তভোগী ছাত্রীকে উদ্ধার করে। তাঁকে প্রথমে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি তাঁর বিভাগের এক নারী শিক্ষকের কাছে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ দেন।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

ভুক্তভোগীর বরাত দিয়ে ওই নারী শিক্ষক জানান, প্রাক্তন ছাত্র এস এম তারিকুল ইসলামের সঙ্গে ভুক্তভোগী ছাত্রীর আগে সম্পর্ক ছিল, যা পরে ভেঙে যায়। গতকাল মঙ্গলবার প্রাক্তন ওই ছাত্র ভুক্তভোগীর হলের সামনে গিয়ে নানা অগ্রহণযোগ্য কাজ করেন। একপর্যায়ে তিনি কথা বলার জন্য বাসায় যেতে ছাত্রীকে জোরাজুরি করেন এবং রাজি না হলে ব্ল্যাকমেল করেন। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রী প্রাক্তন ছাত্রের বাসায় যান, সেখানে তাঁর মুখ টেপ দিয়ে আটকে মারধর করা হয় এবং হাতে গরম পানি ঢেলে দেওয়া হয়।

আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিরাজ আকন বলেন, "পুলিশ ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁর অবস্থা গুরুতর বিবেচনা করে তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়।"

আসামির পরিচয় ও পুলিশের তদন্ত

মামলার আসামি এস এম তারিকুল ইসলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলায়। ভুক্তভোগী ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। পুলিশ জানিয়েছে, তারা আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত চালাচ্ছে এবং ঘটনাস্থল থেকে প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও সতর্কতা জারি করেছে এবং ছাত্রীদের নিরাপত্তা বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আশুলিয়া থানা বলেছে, তারা মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা করবে।