শেরপুরে জমি বিরোধে কৃষক খুন, তিন নারীকে আটক করেছে পুলিশ
শেরপুরে জমি বিরোধে কৃষক খুন, তিন নারী আটক

শেরপুরে জমি বিরোধের জেরে কৃষক খুন, তিন নারী আটক

শেরপুর প্রতিনিধি: শেরপুরের নকলা উপজেলায় বাড়ির সীমানা ও রাস্তার জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক কৃষক খুন হওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন নারীকে আটক করেছে, যদিও অভিযুক্ত পরিবার হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে বলছে এটি প্রাকৃতিক মৃত্যু হতে পারে।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকালে নকলা উপজেলার গনপদ্দী ইউনিয়নের চিথলিয়া পূর্বপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত কৃষক খোরশেদ আলী (৫০) তার চাচাতো বোনের স্বামী জুলহাস মিয়ার সঙ্গে বাড়ির সীমানা ও চলাচলের রাস্তার জমি নিয়ে বিরোধে জড়িত ছিলেন। সকালে ওই বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও পারিবারিক ঝগড়া বাধে, এবং একপর্যায়ে খোরশেদ আলী রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তর্কবিতর্ক শুরু হলে জুলহাস মিয়ার পরিবারের লোকজন তাকে একা পেয়ে গলা চেপে ধরে।

এতে তিনি শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের ছোট ভাই বকুল মিয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন, এবং তিনি দাবি করেছেন যে দীর্ঘদিন ধরে এই জমি বিরোধ চলছিল যা শেষ পর্যন্ত এই মর্মান্তিক ঘটনার দিকে পরিচালিত করে।

পুলিশের তদন্ত ও আটক

ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন নারীকে আটক করেছে। আটকরা হলেন জুলহাসের স্ত্রী জুলেখা বেগম, হাফিজুলের স্ত্রী জোস্না এবং জাকিরের স্ত্রী শারমিন আক্তার। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা কৃষক খোরশেদ আলীর মৃত্যুর অভিযোগ নিয়ে কাজ করছে এবং প্রাথমিকভাবে এই নারীদের আটক করা হয়েছে। নকলা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবুল কাসেম জানিয়েছেন, পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার

এদিকে, জুলহাসের পরিবার হত্যার অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করেছে। তারা দাবি করেছে যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে খোরশেদ আলী উত্তেজিত হয়ে মাটিতে পড়ে যান, এবং তিনি আগে থেকেই শ্বাসকষ্টের রোগী ছিলেন। পরিবারের মতে, উত্তেজনার কারণে স্ট্রোক হয়ে থাকতে পারে, এবং তাদের বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ মিথ্যা। এই বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ আরও গভীর তদন্ত চালাচ্ছে এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে চেষ্টা করছে।

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং অনেকেই জমি বিরোধের মতো সামান্য বিষয় কীভাবে ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে দ্রুত তদন্ত শেষ করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে, এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।