বিএনপি নেতার মামলায় কারাগারে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতা হাসান জিহাদী জামিনে মুক্তি পেলেন
কারাগারে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা হাসান জিহাদী জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার থেকে তিনি মুক্তি লাভ করেন। এই মুক্তি আদালতের জামিন মঞ্জুরের পরপরই ঘটে, যা ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের সৃষ্টি করেছে।
আদালতের জামিন মঞ্জুর এবং মুক্তির ঘটনা
বিএনপি নেতার করা মামলায় কারাগারে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কুড়িগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান জিহাদীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত শুনানি শেষে তাঁর জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। হাসান জিহাদীর স্ত্রী সৈয়দা আইরিন আক্তার জানান, আজ জিহাদীর জামিনের জন্য আবেদন করা হলে আদালত শুনানি শেষে তা মঞ্জুর করেন। বিকেলে তিনি কুড়িগ্রাম জেলা কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন।
মঙ্গলবার বিকেলে কুড়িগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে হাসান জিহাদী বের হলে জেলার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা তাঁকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন। এই মুহূর্তটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে যারা তাঁর মুক্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষা করছিলেন।
পূর্বের জামিন নামঞ্জুর এবং বর্তমান পরিস্থিতি
এর আগে গত রোববার একই আদালত হাসান জিহাদীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের বিচারক মো. মমতাজুল করিম এ আদেশ দিয়েছিলেন। তবে আজকের শুনানিতে আদালত ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে জামিন মঞ্জুর করেন, যা আইনি প্রক্রিয়ায় একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
হাসান জিহাদী রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম দেবত্তর গ্রামের রাজিকুল ইসলামের ছেলে। তাঁর মুক্তি স্থানীয়ভাবে একটি বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্যদের মধ্যে।
মামলার পটভূমি এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাবখাঁ সরিষাবাড়ী এলাকায় বিএনপির নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য মো. শহিদুল ইসলামের বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগে বলা হয়, হাসান জিহাদী ও তাঁর সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালান। এ সময় টিনের বেড়া ভাঙচুর এবং নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটে। পরে শহিদুল ইসলাম রাজারহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ তা মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন হাসান জিহাদীর সমর্থকেরা। তাঁদের দাবি, উচ্চ শব্দে গান বাজানোকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। এতে এলাকার বয়স্ক ব্যক্তি ও শিক্ষার্থীরা অসুবিধায় পড়েন। এ কারণে হাসান জিহাদী আপত্তি জানালে শহিদুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন তাঁর ওপর হামলা চালান। পরে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নিতে নিজেদের বাড়ির আসবাব এলোমেলো করে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা করেন বলে দাবি করেন তাঁরা।
এই মামলাটি স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার একটি কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে, এবং হাসান জিহাদীর মুক্তি এখন আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের সিদ্ধান্ত পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং স্থানীয় শান্তি-শৃঙ্খলার উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
