ভোলার তজুমদ্দিনে বাক্‌প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার, হাসপাতালে অস্ত্রোপচার
ভোলায় বাক্‌প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় তিন গ্রেপ্তার

ভোলার তজুমদ্দিনে বাক্‌প্রতিবন্ধী গৃহবধূ ধর্ষণ মামলায় তিনজন গ্রেপ্তার

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় বাক্‌প্রতিবন্ধী এক গৃহবধূকে (২৫) দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে তজুমদ্দিন থানা মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এদিকে, ভুক্তভোগী গৃহবধূ ভোলা সদর হাসপাতালে গুরুতর চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও মামলা দায়ের

গত রোববার রাতে কীর্তন শুনে বাড়ি ফেরার পথে ওই গৃহবধূ দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আসামি হিসেবে আরও তিনজনকে করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই তজুমদ্দিন থানার পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখার একাধিক দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান শুরু করে।

গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি

সংবাদ সম্মেলনে ভোলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. ইব্রাহীম লিখিত বক্তব্যে জানান, সোমবার রাতে বিশেষ অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মো. রাকিব (৩০), ৩ নম্বর আসামি মো. জুয়েল (৩৫) এবং তদন্তে প্রাপ্ত আসামি আল আমিন সম্রাটকে (২০) তজুমদ্দিন থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ঘটনায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন এবং অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।

ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও সহায়তা

ভুক্তভোগী গৃহবধূ ভোলা সদর হাসপাতালে গুরুতর চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ভোলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক তৈয়বুর রহমান জানান, সোমবার দুপুরের দিকে পুলিশ একজন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার গৃহবধূকে নিয়ে আসে। তখন তার অবস্থা খারাপ ছিল, ধর্ষণের কারণে জরায়ুর কয়েকটি স্থানে ক্ষত সৃষ্টি হওয়ার কারণে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। পরে তার অস্ত্রোপচার করা হয় এবং দুই ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। বর্তমানে রোগী আগের থেকে ভালো আছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

ভোলা জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টসহ একাধিক সংগঠনের নেতারা হাসপাতালে গিয়ে গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরাও তার খোঁজখবর নিচ্ছেন। ভোলা জেলা প্রশাসক শামীম রহমান তার চিকিৎসার জন্য ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং বিভিন্ন সংগঠন থেকেও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়া ও চলমান তদন্ত

এই ঘটনা স্থানীয় সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ন্যায়বিচারের দাবিতে বিভিন্ন মহল সোচ্চার হয়েছে। পুলিশের তদন্ত দল ঘটনার সকল দিক খতিয়ে দেখছে এবং প্রযুক্তিগত সহায়তায় আরও সূত্র অনুসন্ধান করছে। আশা করা হচ্ছে, শীঘ্রই অন্যান্য পলাতক আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে এবং মামলার ন্যায়বিচার নিশ্চিত হবে।