রংপুরের পীরগাছায় হিজবুত তাওহীদ সদস্যদের বসতবাড়িতে হামলার এক বছরেও বিচারহীনতা, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ
পীরগাছায় হামলার এক বছরেও বিচারহীনতা, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

রংপুরের পীরগাছায় হিজবুত তাওহীদ সদস্যদের বসতবাড়িতে হামলার এক বছরেও বিচারহীনতা

রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় হিজবুত তাওহীদ সদস্যদের আটটি বসতবাড়িতে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার এক বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার তীব্র অভিযোগ তুলেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই অভিযোগ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বিচার, আসামিদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিপূরণ ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য ও ভুক্তভোগীদের উপস্থিতি

সংবাদ সম্মেলনে হিজবুত তাওহীদের রংপুর বিভাগীয় আমির আবদুল কুদ্দুস (শামীম) লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন। এ সময় ভুক্তভোগী আবুল কালাম ও হাসানুর রহমানসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি পীরগাছার পারুল ইউনিয়নের ছিদামহাট এলাকায় একটি প্রীতিভোজের আয়োজনকে কেন্দ্র করে এই হামলা সংঘটিত হয়।

হামলার বিস্তারিত ও ক্ষয়ক্ষতি

আবদুল কুদ্দুসের দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে আটটি বসতবাড়িতে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া, আগত অতিথিদের ২৩টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে পুড়িয়ে দেওয়া হয় এবং ১২টি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়। এই ঘটনায় বাড়িঘর ধ্বংস, মালামাল লুট, চিকিৎসা খরচ, আইনি লড়াই ও বাস্তুচ্যুত হওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। দুজন ব্যক্তি স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন এবং কয়েকটি পরিবার এখনো উদ্বাস্তু অবস্থায় মানবেতর জীবন যাপন করছে।

মামলা ও বিচার প্রক্রিয়ায় বিলম্ব

ভুক্তভোগীদের মতে, হামলা-লুটপাটের ঘটনায় পীরগাছা থানায় একটি ও রংপুর আদালতে পাঁচটি মামলা করা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত ও ভিডিও ফুটেজে চিহ্নিত আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ তাদের কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। সম্প্রতি আদালত একটি মামলায় ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলে আসামিরা উল্টো ভুক্তভোগীদের হুমকি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আসামিদের পরিচয় ও জামায়াতের ভূমিকা

আবদুল কুদ্দুস অভিযোগ করেন, হামলার ঘটনায় তাদের করা মামলার প্রধান আসামি নুর আলম, যিনি ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি হিসেবে পরিচিত। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে হিজবুত তাওহীদের আদর্শিক কোনো দ্বন্দ্ব নেই, কিন্তু নুর আলমের সম্পৃক্ততা নিয়ে জামায়াত তাকে বহিষ্কার বা কোনো সাংগঠনিক বিবৃতি দেয়নি। নুর আলম প্রথম আলোকে বলেন, তারা সংবাদ সম্মেলন করে তাদের বক্তব্য তুলে ধরবেন।

পুলিশ ও থানার বক্তব্য

পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম খন্দকার মুহিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে জানান, তিনি গত ডিসেম্বরে থানায় যোগ দিয়েছেন এবং মামলাটির অগ্রগতি বিষয়ে তাঁর জানা নেই। এই মন্তব্য থেকেও বিচার প্রক্রিয়ার ধীরগতি ও অস্পষ্টতা ফুটে উঠেছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি ও নতুন সরকারের প্রতি আবেদন

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো নতুন সরকারের কাছে এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার, ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জোর দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি, যারা এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন, তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে। এক বছর পরও নিরাপত্তাহীনতা ও মানবেতর জীবনযাপনের মাঝে তাদের এই দাবি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।