ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের প্রতিবাদ: পুলিশের 'মাদকবিরোধী অভিযানে' ছাত্র নেতার ওপর হামলার ঘটনায়
ডাকসুর প্রতিবাদ: পুলিশের অভিযানে ছাত্র নেতার ওপর হামলা

ডাকসুর তীব্র প্রতিবাদ: পুলিশের 'মাদকবিরোধী অভিযানে' ছাত্র নেতার ওপর হামলা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) রাজধানীর সুহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) একটি 'মাদকবিরোধী অভিযানে' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্র ও বামপন্থী ছাত্র নেতার ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসু এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে।

হামলার বিবরণ ও ডাকসুর বক্তব্য

ডাকসুর নির্বাহী সদস্য হেমা চাকমার স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা অভিযানের সময় কোনো প্রমাণ ছাড়াই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সহ-সভাপতি নাঈম উদ্দিনের ওপর শারীরিক হামলা চালায়। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ডিএমপির উপকমিশনার (রমনা জোন) মাসুদের নির্দেশনায় এই হামলা পরিচালিত হয়, যা সুশাসন ও মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।

ডাকসু এই ঘটনায় "গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ" প্রকাশ করে বলেছে, প্রমাণ ছাড়াই একজন সাধারণ নাগরিককে অপরাধী হিসেবে ফাঁদানোর চেষ্টা এবং পুলিশ বাহিনীর নামে ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে। সংগঠনটি নাগরিকের স্বাধীনভাবে চলাফেরার মৌলিক অধিকার খর্ব করারও প্রতিবাদ জানিয়েছে। ডাকসু জোর দিয়ে বলেছে, আইনগত কারণ ছাড়াই কোনো ব্যক্তির শারীরিক হামলা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থার দাবি

ডাকসু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে উপকমিশনার মাসুদ ও ঘটনায় জড়িত সকল পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে "তাত্ক্ষণিক" বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। ছাত্র সংগঠনটি এই ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে জোরালো আবেদন রেখেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন মানবাধিকার লঙ্ঘন রোধ করা যায়।

এই প্রতিবাদের মাধ্যমে ডাকসু ছাত্র অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষায় তার অবস্থান স্পষ্ট করেছে, পাশাপাশি পুলিশি বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে। ঘটনাটি শিক্ষার্থী ও সুশীল সমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যারা ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার দাবিতে একত্রিত হচ্ছে।