ঢাবি শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতার ওপর পুলিশি হামলার অভিযোগ, ডাকসুর প্রতিবাদ
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মাদকবিরোধী অভিযানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্রনেতাকে মারধরের তীব্র অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) বিষয়টির সঙ্গে জড়িত ডিসি মাসুদসহ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছে।
ডাকসুর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবাদ
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ডাকসু এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য হেমা চাকমা সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অত্যন্ত গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানানো হচ্ছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাংলাদেশ পুলিশ আজকে ঢাবি ছাত্র ও বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের সহসভাপতি নাঈম উদ্দীনের ওপর কোনও প্রমাণ ছাড়াই হামলা চালিয়েছে। ডিসি মাসুদের নির্দেশে সংঘটিত এই হামলা শাসন ও মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্রমাণ ছাড়া একজন সাধারণ নাগরিককে অপরাধী ফ্রেমিং করার অপচেষ্টার তীব্র নিন্দা জানানো হচ্ছে। পুলিশ বাহিনীর নামে আতঙ্ক সৃষ্টি করে একজন নাগরিকের স্বাধীনভাবে চলাফেরার মৌলিক অধিকার খর্ব করার প্রতিবাদও জানানো হয়েছে। কোনও বৈধ কারণ ছাড়াই একজন মানুষকে শারীরিকভাবে আঘাত করার ঘটনাকে আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করছি। এই ঘটনা দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার চর্চার গুরুত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
ডাকসুর দাবি ও আহ্বান
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ডাকসুর বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ডিসি মাসুদসহ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অবিলম্বে বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পুলিশ বাহিনীকে প্রকৃত অর্থে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। দেশের নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও মানবিকতার চর্চা করতে হবে বলে জোর দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ছাত্র সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক পুলিশের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ন্যায়বিচারের দাবি তুলেছেন। ডাকসুর এই প্রতিবাদ ছাত্র অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
