ময়মনসিংহে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় কলেজছাত্রের মৃত্যু: আদালতে জবানবন্দি
ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে বেড়াতে গিয়ে একদল কিশোর গ্যাংয়ের কবলে পড়েন। এই ঘটনায় একজন শিক্ষার্থী ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে বেঁচে ফিরলেও অন্যজন নূরুল্লাহ শাওনের মরদেহ গত শুক্রবার রাতে উদ্ধার করা হয়।
আদালতে দুই কিশোরের জবানবন্দি
গতকাল রোববার সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক তনয় সাহার আদালতে দুই কিশোর জবানবন্দি দেয়। নিহত নূরুল্লাহ শাওন আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার চর জাকালিয়া গ্রামে।
এই ঘটনায় ছয় কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে এক কিশোরকে আদালতের মাধ্যমে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য পাঁচ কিশোরকে গতকাল সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হলে দুজন জবানবন্দি দেয়। তাদের একজনের বয়স ১৪ এবং অন্যজনের বয়স ১৫ বছর।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
আদালতে দেওয়া দুই কিশোরের জবানবন্দির বরাতে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দুই বন্ধু ব্রহ্মপুত্র নদ পাড়ে বেড়াতে গিয়ে কিশোর দলটির সামনে পড়েন। দুজন সেখানে কেন গিয়েছেন, এ নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে দলটি। বেড়াতে যাওয়ার কথা বললে যা আছে বের করতে বলে দুজনকে।
এ সময় একজন নৌকাভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই বলে জানায়। শাওনের সঙ্গে একটি বাটন মুঠোফোন এবং তাঁর বন্ধুর সঙ্গে একটি স্মার্টফোন ছিল। এ সময় দলের সদস্যরা দুজনকে মারধর শুরু করে। দুজন প্রাণ বাঁচাতে দৌড় দেন। একজন ব্রহ্মপুত্র নদ সাঁতরে বেঁচে ফেরেন।
মৃত্যুর করুণ পরিণতি
এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, নদের পাশ ধরে কিছুদূর দৌড়ায় শাওন। তার পিছু নেয় দলটির কয়েকজন সদস্য। শাওন নিজে সাঁতার জানতেন না। কিশোর দলটির সদস্যদের ধাওয়ার এক পর্যায়ে কোনো উপায় না দেখে ব্রহ্মপুত্র নদে ঝাঁপ দেন শাওন।
কিন্তু নদ খননের ফলে গভীর থাকায় সাঁতার না জানা শাওন তলিয়ে যেতে থাকেন। ওই সময় দলটির সদস্যরা পানি থেকে তাঁকে তোলার জন্য এগিয়ে আসেনি। একজন কিশোর আবার বলেছে, মুহূর্তেই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শাওনকে তোলার সুযোগ পায়নি তারা। পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে দলটির সদস্যরা পালিয়ে যায়।
কিশোরদের পরিচয় ও ব্যবস্থা
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কিশোর দলটি কত দিন ধরে এ ধরনের কাজ করছিল, তা জানা যায়নি। তাদের নামে আগে কোনো অপরাধের রেকর্ডও নেই। তারা দলিত সম্প্রদায়ের শিশু। আদালতে দুজনের জবানবন্দি শেষে সবাইকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।
এই ঘটনা ময়মনসিংহে সাম্প্রতিক সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের ক্রমবর্ধমান কার্যক্রমের উদ্বেগজনক দিকটি তুলে ধরেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত চলমান রয়েছে, এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
