শ্যামপুরে গণপিটুনিতে যুবক নিহত, বিআইডব্লিউটিএ প্রজেক্টে রড চুরির অভিযোগ
রাজধানীর শ্যামপুরে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুর রহিম (৩৫)। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে পোস্তগোলা শ্মশান ঘাট সংলগ্ন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নতুন প্রজেক্টের ভেতরে তাকে মারধর করা হয়। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
তাৎক্ষণিকভাবে নিহত রহিমের বিস্তারিত পরিচয় জানা না গেলেও, ঘটনার সাক্ষী ও সংশ্লিষ্টরা কিছু তথ্য দিয়েছেন। রহিমকে ঢামেকে নিয়ে আসা বিআইডব্লিউটিএ প্রজেক্টের সাইট ইঞ্জিনিয়ার বিপ্লব জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিআইডব্লিউটিএর প্রজেক্টের ভেতরে রড চুরি করার সময় স্থানীয় লোকজন রহিমকে আটক করে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে তাকে ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
সোমবার ভোর ৫টার দিকে জরুরি বিভাগের ওয়ান স্টপ ইমার্জেন্সি সেন্টারে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “মরদেহ জরুরি বিভাগের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ভয় ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই গণপিটুনির মতো সহিংস ঘটনা রোধে দ্রুত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।
সম্প্রদায়ের প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, এই ধরনের ঘটনা আগে থেকেই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলেন, “গণপিটুনি কোনো সমাধান নয়, এটি আইন হাতে নেওয়ার শামিল।” স্থানীয় নেতারা এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি, তবে প্রজেক্ট সাইটে নিরাপত্তা জোরদারের কথা বলা হয়েছে। এই ঘটনা শহুরে অপরাধ ও সামাজিক সহিংসতার একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
