নওগাঁর নিয়ামতপুরে বিয়েবাড়ি থেকে তরুণীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় একটি বিয়েবাড়ি থেকে এক তরুণীকে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে।
ঘটনার বিবরণ
ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার দিবাগত রাতে নিয়ামতপুর উপজেলার শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের জাবরিপাড়া গ্রামে। ভুক্তভোগীর খালার দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নিয়ামতপুরের ভাবিচা ইউনিয়নের জাবরিপাড়া গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান হয়েছিল। ২১ ফেব্রুয়ারি বিকালে কনেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য কনেপক্ষের আত্মীয়স্বজনরা ওই বিয়েবাড়িতে (বরের বাড়ি) আসেন।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে অভিযুক্তদের একজন কৌশলে ভুক্তভোগী তরুণীকে বাড়ির বাইরে ডেকে নিয়ে যায়। এজাহারে বলা হয়েছে, ডেকে নেওয়ার পরে তাকে স্থানীয় এক বাড়ির পাশে নিয়ে গিয়ে তিনজন সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তরুণী নিজেকে কোনোরকমে মুক্ত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে বিয়েবাড়িতে এসে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়রা অভিযুক্তদের ধরার চেষ্টা করলে তারা পালিয়ে যায়।
গ্রেফতার ও আইনি পদক্ষেপ
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর খালা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। এরপর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- লথিরাম সরেনের ছেলে অনুপ (২০), খুদিরাম হাসদার ছেলে রঞ্জন হাসদা (১৯) ও ঈশ্বর সরেনের ছেলে প্রশান্ত সরেন (১৯)।
এ বিষয়ে নিয়ামতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল করিম বলেন, "ভুক্তভোগীর খালা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। ইতোমধ্যে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।"
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে। তবে সামাজিক নিরাপত্তা ও নারী অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
