গাইবান্ধায় স্কুলছাত্রী নুরমা খাতুনের লাশ উদ্ধার, ধর্ষণ-হত্যার অভিযোগ
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত নুরমা খাতুন তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকালে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া এলাকায় তার নিজ বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল।
ঘটনার বিবরণ
গ্রামবাসী ও পরিবারের সদস্যদের বর্ণনা অনুযায়ী, নুরমার বাবা নজরুল ইসলাম সকালে স্ত্রীকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী ধানের জমিতে কাজ করতে যান, মেয়েকে বাড়িতে একা রেখে। দুপুর ১টার দিকে বাড়ি ফিরে তারা নুরমাকে খুঁজে না পেয়ে আশেপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় বাড়ির বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ দেখতে পেয়ে তারা সেপটিক ট্যাংকের কাছে যান, যেখানে নুরমাকে মাথা নিচের দিকে পড়ে থাকতে দেখেন।
স্থানীয় লোকজন চিৎকার শুনে এসে সেপটিক ট্যাংক থেকে মৃত নুরমাকে টেনে তোলেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তাক্ত মরদেহটি উদ্ধার করে। নুরমার পরিবার ও স্থানীয়রা দাবি করেন, ফাঁকা বাড়িতে একা থাকা অবস্থায় নুরমাকে কেউ ধর্ষণ করেছে, এবং ধর্ষকদের চিনে ফেলায় তারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলাকেটে হত্যা করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেয়। নিহতের স্বজনরা জানান, নুরমার কারো সঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব বা বিবাদ ছিল না।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্ত
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি মুহম্মদ মোজাম্মেল হক লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, "রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের পর হত্যার প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।" পুলিশ এখন ঘটনার তদন্ত করছে এবং সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।
এই ঘটনা এলাকায় ব্যাপক শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা ন্যায়বিচারের দাবিতে সোচ্চার হচ্ছেন, এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে দ্রুত তদন্ত ও শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন। স্কুলছাত্রী নুরমা খাতুনের মৃত্যু সমাজে নিরাপত্তাহীনতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষা বিষয়ে।
