ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিহত শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন, মরদেহ উদ্ধার
ছিনতাইকারীদের কবলে নিহত শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন

ময়মনসিংহে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে নিহত শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন

ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পাশে ঘুরতে গিয়ে কিশোর ছিনতাইকারী দলের কবলে পড়ে নিখোঁজ হন আনন্দ মোহন কলেজের শিক্ষার্থী নুরুল্লাহ শাওন। দুই দিন পর শুক্রবার রাতে তাঁর মরদেহ নদীতে ভেসে ওঠে, যা পুলিশ উদ্ধার করে। ঘটনায় ইতিমধ্যে একজন কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

গত বুধবার বিকেলে ময়মনসিংহের জয়নুল আবেদিন উদ্যান এলাকা থেকে নুরুল্লাহ শাওন ও তাঁর বন্ধু মঞ্জুরুল আহসান (রিয়াদ) ব্রহ্মপুত্র নদের বিপরীত পাশে বেড়াতে যান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে অন্তত সাতজনের একটি কিশোর দল তাঁদের ঘিরে ধরে এবং যা আছে বের করে দিতে বলে। নৌকা ভাড়া ছাড়া আর কোনো টাকা নেই জানালে দুই বন্ধুকেই মারধর করা হয়।

নুরুল্লাহ শাওন প্রতিবাদ করলে তাঁকে বেদম মারতে শুরু করে ছিনতাইকারীরা। একপর্যায়ে দুই বন্ধু দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। চারজন পিছু নেয় শাওনের এবং তিনজন পিছু নেয় মঞ্জুরুলের। মঞ্জুরুল ব্রহ্মপুত্র নদে নেমে সাঁতরে পার হতে পারলেও নুরুল্লাহ শাওনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।

মরদেহ উদ্ধার ও তদন্তের অগ্রগতি

মঞ্জুরুল তীরে উঠে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বন্ধুদের খবর দিয়ে দলটির ১৫ বছর বয়সী এক সদস্যকে ধরে থানা-পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে শাওনের ব্যাগ ও জুতা পাওয়া যায়। পুলিশ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিয়ে নদে সন্ধান চালালেও খোঁজ মেলেনি।

শুক্রবার রাত পৌনে ১১টার দিকে নৌকার মাঝিরা নদের চরে মরদেহ পেয়ে পুলিশকে জানান। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাজমুস সাকিব বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো বলা যাচ্ছে না।

পরিবার ও সহপাঠীদের প্রতিক্রিয়া

নিহতের সহপাঠী ও কলেজের বন্ধুরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন। নিহতের বন্ধু শোয়াইব আক্তার বলেন, ‘আমার দুই বন্ধু ঘুরতে গিয়ে ছিনতাইকারী কিশোর দলের কবলে পড়ে। একজন সাঁতরে নদ পার হয়ে চলে এলেও শাওনকে পাইনি। আমরা একজনকে ধরে সবার নাম-ঠিকানা পুলিশকে দিলেও পুলিশ কিছু করেনি।’ তিনি ঘটনায় জড়িতদের ফাঁসির দাবি করেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে শাওনের মা সাহিদা বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি অভিযোগ দেন। সাতজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় তিন-চারজনকে আসামি করে দেওয়া অভিযোগটি পুলিশ সন্ধ্যায় মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে। অভিযুক্তদের সবার বয়স ১৩ থেকে ১৬-এর মধ্যে।

নিহত শিক্ষার্থীর পরিচয়

নুরুল্লাহ শাওন (২৬) ময়মনসিংহ নগরের আনন্দ মোহন কলেজের রসায়ন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের চর জাকালিয়া গ্রামের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তাঁর মৃত্যুতে শিক্ষা পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় সম্প্রদায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।