গাজীপুরের টঙ্গীতে ইয়াবা তৈরির ল্যাব উদ্ধার, মালিক শিমুল গ্রেপ্তার
টঙ্গীতে ইয়াবা ল্যাব উদ্ধার, মালিক শিমুল গ্রেপ্তার

গাজীপুরের টঙ্গীতে ইয়াবা তৈরির ল্যাব উদ্ধার, মালিক শিমুল গ্রেপ্তার

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি বাসায় ইয়াবা তৈরির ল্যাব উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের গোয়েন্দারা। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা, ইয়াবা তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জামসহ ল্যাবের মালিক তোহিদুজ্জামান ওরফে শিমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে গোপন খবরের ভিত্তিতে গোয়েন্দারা ক্রেতা সেজে টঙ্গী পূর্ব থানার বসুন্ধরা কাজীবাড়ি পুকুরপাড়ে খলিলুল্লাহ রোডের তোহিদুজ্জামানের ভাড়া বাসায় যান। এ সময় তোহিদুজ্জামান তাঁদের কাছে পাঁচ হাজার ইয়াবা বিক্রি করতে রাজি হন। একপর্যায়ে তোহিদুজ্জামানকে আটক করা হয় এবং তাঁর পাশের টেবিলে রাখা ইয়াবা ও বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম দেখতে পেয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তোহিদুজ্জামান গোয়েন্দাদের বলেন, টেবিলের রাখা বড়িগুলো ইয়াবা এবং উপকরণগুলো হচ্ছে ইয়াবা তৈরির বিভিন্ন কাঁচামাল ও সরঞ্জাম। এ সময় তোহিদুজ্জামানের শরীর তল্লাশি চালিয়ে ও শোবার ঘর থেকে সাড়ে চার হাজার ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ডিজিটাল মেশিনে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, জব্দ করা বড়িগুলো অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা বড়ি।

গ্রেপ্তারকৃতের পটভূমি ও কার্যক্রম

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের গোয়েন্দা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মেহেদী হাসান অভিযান তদারক করেন। তিনি জানান, জিজ্ঞাসাবাদে তোহিদুজ্জামান স্বীকার করেছেন যে তিনি গাজীপুরের পুবাইলে একটি আয়ুর্বেদিক ল্যাবরেটরিজে কেমিস্ট হিসেবে চাকরি করতেন। সেখানে বিভিন্ন ধরনের ডায়েসে ট্যাবলেট বানানোর অভিজ্ঞতা অর্জন করেন এবং সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে চার মাস আগে ইয়াবা প্রস্তুতিতে মনোনিবেশ করেন।

তিনি আয়ুর্বেদিক প্রতিষ্ঠানের চাকরি ছেড়ে দিয়ে একটি আয়ুর্বেদিক দোকানও দিয়েছিলেন। তাঁর বাসা থেকে জব্দ করা কাঁচামাল দিয়ে ১৫–২০ হাজার ইয়াবা তৈরি করা সম্ভব ছিল বলে জানা গেছে। মেহেদী হাসান আরও বলেন, তোহিদুজ্জামান ৫০০ ইয়াবা কিনে সেগুলো গুঁড়া করে তাতে রং, কেমিক্যালসহ বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে পাঁচ হাজার ইয়াবা তৈরি করতেন। এসব ইয়াবা তিনি গাজীপুর, ঢাকা ও সাভারে তাঁদের চক্রের সদস্যদের কাছে পাইকারি বিক্রি করতেন।

আইনি পদক্ষেপ ও চলমান তদন্ত

এ ঘটনায় তোহিদুজ্জামানের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়াবা প্রস্তুত ও বাজারজাতের সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। তাঁদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফের নির্দেশে মাদক কারবারিদের নির্মূলে গোয়েন্দা বিভাগ তৎপর রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই অভিযানটি মাদকবিরোধী কার্যক্রমের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।