কুমিল্লায় পাওনা টাকার বিরোধে নির্মাণ শ্রমিক হত্যা: গ্রেফতার অভিযুক্ত
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় পাওনা টাকার বিরোধের জেরে এক নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিহত রুবেল ইসলাম নামের এই শ্রমিকের বাবা সাইফুল ইসলাম হত্যা মামলা দায়ের করেছেন, এবং পুলিশ অভিযুক্ত আক্কাশ আলীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রুবেল ইসলাম ও আক্কাশ আলীসহ আরও কয়েকজন শ্রমিক নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নের গুঞ্জুর গ্রামের বেলতলী বাজার এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাওনা টাকা নিয়ে দুজনের মধ্যে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে আকাশ লোহার তৈরি একটি বস্তু দিয়ে রুবেলের মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর জখম করে।
ঘটনার সময় সহকর্মী কামাল মিয়া বাইরে থেকে ঘরে ঢোকার পথে আকাশকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে দেখেন। পরে ঘরে ঢুকে তিনি রুবেলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুবেলকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত ও অভিযুক্তের পরিচয়
নিহত রুবেল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার বেলপুকুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে, অভিযুক্ত আক্কাশ আলী একই উপজেলার চন্দনা উজিরপুর গ্রামের সাহাদাৎ-এর ছেলে। নিহতের বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, "রুবেল আমার একমাত্র সন্তান। কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। দুই মাস আগে সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় ছেলেকে কাজের জন্য মুরাদনগরে পাঠিয়েছিলাম। এখন সে লাশ হয়ে ফিরেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
পুলিশের তদন্ত ও গ্রেফতার
এ ঘটনায় বুধবার রাতে রুবেলের বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্বাস কবির চৌধুরী জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় বুধবার রাতে গুঞ্জুর গ্রাম থেকে অভিযুক্ত আক্কাশ আলীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের কথা স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড শ্রমিকদের মধ্যে আর্থিক বিরোধের ভয়াবহ পরিণতি তুলে ধরেছে এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোকের ছায়া ফেলেছে। পুলিশ মামলার তদন্ত জোরদার করেছে এবং বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার আশ্বাস দিয়েছে।
