নবাবগঞ্জে স্ত্রীর সহায়তায় শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ
ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় এক বৃদ্ধ তার স্ত্রীর সহায়তায় এই অপরাধটি সংঘটিত করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার ইতিমধ্যে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছে, তবে আসামিরা এখনো পলাতক রয়েছেন।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
নবাবগঞ্জের নয়নশ্রী ইউনিয়নের শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মো. মঙ্গল (৬০) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি একই এলাকার চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মেয়েটির বাবা রাজমিস্ত্রির কাজ করেন এবং সারা দিন বাইরে থাকেন, আর মা নেই বলে পরিবারটি বেশ অসহায় অবস্থায় রয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি মঙ্গল মেয়েটিকে তার বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তার স্ত্রী লিপি বেগম (৪৫) সহায়তা করার পর মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে না জানাতে মেয়েটিকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে মেয়েটিকে আবারও একই কাজ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হলে, সে তার বাবা ও মামার কাছে বিষয়টি খুলে বলে।
মামলা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে শান্তিনগর গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলীর ছেলে মঙ্গল (৬০), তার স্ত্রী লিপি বেগম (৪৫) এবং বিলপল্লি গ্রামের মুনছের আলীর ছেলে মো. আলমাছের (৫০) বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মেয়েটির মামা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "কতটা নরপিশাচ হলে ছোট মেয়েটিকে ধর্ষণ করতে পারে, তাও স্ত্রীর সহায়তায়।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আলমাছের হুমকির কারণে তারা দীর্ঘদিন আইনের সহায়তা নিতে পারেননি। অবশেষে শনিবার রাতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরিবারটি আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও অভিযান
অভিযুক্ত মঙ্গলের সঙ্গে যোগাযোগের একাধিক চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ ঘটনার পর থেকেই তিনি ও অন্যান্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন। নবাবগঞ্জ থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "এ বিষয়ে মামলা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।"
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারা এলাকায় তদন্ত চালাচ্ছেন এবং আসামিদের গ্রেফতারের জন্য নজরদারি বাড়িয়েছেন। স্থানীয় সম্প্রদায় এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে দ্রুত ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে।
