টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভোট চাইতে গিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, চারজন অভিযুক্ত
ভূঞাপুরে ভোট চাইতে গিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ভোট চাইতে গিয়ে গৃহবধূকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় ভোট চাইতে গিয়ে এক গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার মর্মান্তিক অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী টাঙ্গাইল যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন, যা এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।

ঘটনার বিবরণ

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভূঞাপুর উপজেলার মেঘার পটল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মেঘারপটল গ্রামের নাজমুলের বাড়িতে একই এলাকার চারজন ব্যক্তি ভোট চাইতে যান। এ সময় নাজমুল বাড়িতে না থাকায় গৃহবধূ তাদের চলে যেতে বলেন।

অভিযুক্তরা তাকে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকে ভোট দিতে চাপ দিলে গৃহবধূ জানিয়ে দেন, তিনি ভোটার নন এবং তার পরিবারের সবাই ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট দেবেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চারজনের মধ্যে শহিদুল নামের একজন হঠাৎ গৃহবধূকে জড়িয়ে ধরে তার শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন।

ধর্ষণের চেষ্টা ও পালিয়ে যাওয়া

অন্যরা তার কাপড় খুলে ফেলার চেষ্টা করে এবং দলবদ্ধভাবে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় গৃহবধূ চিৎকার করলে আশেপাশের লোকজন আসলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় তারা ঘটনাটি জানাজানি হলে পরে এসে তুলে নিয়ে নির্যাতনের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তদের পরিচয়

অভিযুক্তরা হলেন:

  • ইব্রাহীমের ছেলে শহিদুল (৩০)
  • মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে সোহেল (২৫)
  • আলী আকবর মুন্সির ছেলে এনামুল (৩২)
  • আকবর ফকিরের ছেলে আল আমিন (৩০)

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত

এ ঘটনায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, ভোটের নামে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।”

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মেমরাজুল ইসলাম রুবেল বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।”

এই ঘটনা ভোটের সময় নারী নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে এবং স্থানীয়ভাবে নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।