নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বাড়ছে, মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ
নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বাড়ছে

নির্বাচনের আগে সাংবাদিকদের ওপর হামলা বাড়ছে, মানবাধিকার সংস্থার উদ্বেগ

আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে বলে জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK)। সংস্থাটি মঙ্গলবার এক প্রেস বিবৃতিতে এই তথ্য প্রকাশ করে।

ফেব্রুয়ারিতে সহিংসতার তীব্রতা বৃদ্ধি

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিনে দেশব্যাপী ৫৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত ২ জন নিহত এবং ৪৮৯ জন আহত হয়েছেন। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে যে, জানুয়ারি মাসের শেষ ১০ দিনে ৪৯টি সহিংস ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু ও ৪১৪ জন আহত হয়েছিল, যা ফেব্রুয়ারিতে সহিংসতার তীব্রতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।

সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা

মানবাধিকার সংস্থাটি নির্বাচন-সংক্রান্ত সংবাদ কভার করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপর বাড়তে থাকা হামলার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডিসেম্বর ২০২৫ সালে ১১ জন সাংবাদিক, জানুয়ারি ২০২৬ সালে ১৬ জন সাংবাদিক এবং ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের প্রথম ১০ দিনেই অন্তত ৪৭ জন সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন।

ফেব্রুয়ারি ৭ তারিখের একটি ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য: অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলাদেশ টাইমসের ২১ জন সাংবাদিককে তাদের কর্মস্থল থেকে একটি সামরিক ক্যাম্পে নিয়ে গিয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে রাখা হয়েছিল। আইন ও সালিশ কেন্দ্র এই ঘটনাকে মুক্ত সংবাদ মাধ্যমের জন্য একটি বড় বাধা হিসেবে অভিহিত করেছে।

নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে আশঙ্কা

সংস্থাটি সতর্ক করে দিয়েছে যে, নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, রাজনীতি ততই সংঘাতমুখী হয়ে উঠছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের মতে, সহিংসতা ও সাংবাদিকদের ভীতি প্রদর্শনের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে।

আহ্বান ও সুপারিশ

আইন ও সালিশ কেন্দ্র সকল সংশ্লিষ্ট পক্ষকে আইনের শাসন বজায় রাখতে এবং সংবিধান দ্বারা নিশ্চিতকৃত প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার রক্ষার জন্য আহ্বান জানিয়েছে। সংস্থাটি আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের স্বাধীন ও নিরাপদে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের অনুমতি দেয় এমন পরিবেশ সৃষ্টিরও দাবি জানিয়েছে।

সংস্থার তথ্য অনুসারে, জানুয়ারি মাসের প্রথম ১০ দিনে ৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়েছিলেন। জানুয়ারি ১১ থেকে ২০ তারিখের মধ্যে ১৮টি ঘটনায় ২ জনের মৃত্যু ও ১৭৬ জন আহত হয়েছিলেন। এই তথ্যগুলো রাজনৈতিক সহিংসতার ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।