পাথরঘাটায় জামায়াত নেতাকে লাঠিপেটা করে গুরুতর আহত, দুই পা ভেঙেছে
পাথরঘাটায় জামায়াত নেতাকে পিটিয়ে আহত, দুই পা ভাঙা

পাথরঘাটায় জামায়াত নেতাকে লাঠিপেটা করে গুরুতর আহত, দুই পা ভেঙেছে

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায় এক নেতৃস্থানীয় জামায়াত নেতাকে নির্মমভাবে হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। এতে তার দুই পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে, যা ভেঙে যাওয়ার মতো অবস্থা সৃষ্টি করেছে। এ সময় তার বাঁ হাত ও মাথায়ও আঘাত করা হয়েছে, যা ঘটনাটির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ঘটনার বিবরণ

মঙ্গলবার বেলা দেড়টার দিকে উপজেলার কাঁঠালতলী দাখিল মাদ্রাসার কাছে অবস্থিত বয়ার খুঁটি ব্রিজের ওপর এ হামলা সংঘটিত হয়। আহত মাহফুজুর রহমান উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতে আমির এবং একই মাদ্রাসার ইবতেদায়ি শাখার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

কাঁঠালতলী দাখিল মাদ্রাসার সুপার শরীফ আবদুর রহমান জানান, হামলায় মাহফুজুর রহমান মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন এবং তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বলেন, 'মাহফুজুর রহমান বয়ার খুঁটি ব্রিজের ওপর ওঠামাত্র তিন যুবক লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করে তাকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেন। এরপর দুই পায়ে বারবার আঘাত করে সেগুলো ভেঙে দেন। তার কপালের ডান অংশে ও বাঁ হাতেও আঘাত করা হয়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।'

চিকিৎসা ও পুলিশি ব্যবস্থা

পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান বলেন, 'মাহফুজুর রহমানের দুই পায়ে মারাত্মক জখম হয়েছে। এ ছাড়া কপালেও আঘাত লেগেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে (জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান) নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে।'

পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, 'বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ঘটনার পটভূমি

স্থানীয় ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, মাহফুজুর রহমান কাঁঠালতলী দাখিল মাদ্রাসা থেকে বেলা ১টার দিকে বের হন এবং মোটরসাইকেলে বাড়ির পথে রওনা হন। মাদ্রাসা থেকে বয়ার খুঁটি ব্রিজে পৌঁছানোর পর তিন ব্যক্তি তার ওপর হামলা চালান। এ সময় তার সঙ্গে মাদ্রাসার জুনিয়র মৌলভি রফিকুল ইসলাম ছিলেন, যিনি ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছেন।

এই হামলার ফলে স্থানীয় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে এবং নাগরিক সমাজ থেকে দ্রুত বিচার দাবি করা হচ্ছে। ঘটনাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মন্তব্য করেছেন।