হামিদা হোসেনের জীবনের গল্প: শৈশব থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও নারী অধিকার
হামিদা হোসেনের জীবনের গল্প: শৈশব থেকে স্বাধীনতা ও নারী অধিকার

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মানবাধিকার নেত্রী ও লেখক ড. হামিদা হোসেনের সঙ্গে প্রথম আলোর বিশেষ আয়োজন 'ক্রাউন সিমেন্ট অভিজ্ঞতার আলোয়' অনুষ্ঠানে কথা বলেছেন আনিসুল হক। সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে তাঁর শৈশব, শিক্ষাজীবন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ভূমিকা, নারী অধিকার আন্দোলন এবং তাঁতশিল্প নিয়ে কাজের কথা।

শৈশব ও পরিবার

১৯৩৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর হায়দরাবাদ সিন্ধে ড. হামিদা হোসেনের জন্ম। তাঁর বাবা আবদুল্লাহ শফি মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আখুন্দ ব্রিটিশ আমলে জজ ছিলেন। মা ও নানা-নানি হিন্দু পরিবার থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। পরে পরিবারটি সৌদি আরব, তুরস্ক হয়ে পাকিস্তানে ফিরে আসে।

শিক্ষাজীবন

হামিদা হোসেন হায়দরাবাদ ও করাচির মিশনারি স্কুলে পড়েছেন। পরে ওয়েলেসলি কলেজ থেকে ইতিহাস ও ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক হন। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। তাঁর পিএইচডির বিষয় ছিল বাংলাদেশের তাঁতশিল্প, যার জন্য তিনি ফিল্ড রিসার্চ ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রেকর্ড ব্যবহার করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্বাধীনতা সংগ্রাম ও ফোরাম পত্রিকা

১৯৬৯ সালে ড. কামাল হোসেন ও রেহমান সোবহানের সঙ্গে মিলে 'ফোরাম' পত্রিকা শুরু করেন। পত্রিকাটির শেষ সম্পাদকীয় 'অপশনস ফর আ সেন ম্যান' ইয়াহিয়া খানকে যুদ্ধ এড়ানোর বিকল্প পথ দেখিয়েছিল। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাদের হাত থেকে বাঁচতে তিনি করাচি চলে যান। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে একই প্লেনে ঢাকায় ফেরেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা

স্বাধীনতার পর হামিদা হোসেন সালমা সোবহান, আমিরুল ইসলাম, জাস্টিস সোবহান ও ব্র্যাকের আবেদ ভাইয়ের সঙ্গে মিলে 'আইন ও সালিশ কেন্দ্র' প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনটি নারী নির্যাতনের শিকারদের সালিশের মাধ্যমে বিচার পেতে সহায়তা করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তাঁতশিল্প ও জামদানি গবেষণা

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও প্রফেসর তোফায়েল আহমেদের সঙ্গে ঘুরে হামিদা হোসেন বাংলাদেশের তাঁতশিল্পের মানচিত্র তৈরি করেন। তাঁর গবেষণায় জামদানি ও টাঙ্গাইল কাপড়ের উৎপাদন এলাকা চিহ্নিত হয়।

নারী অধিকার ও গণতন্ত্র

হামিদা হোসেন মনে করেন, নারীরা এখনও পুরুষতান্ত্রিক চাপের মুখে মুখ খুলতে পারেন না। তিনি গণতন্ত্রের প্রকৃত অর্থ বুঝতে এবং নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দেন।

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি বার্তা

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে দেখে তিনি আশাবাদী। তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে শান্তিপূর্ণ, যেখানে সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে থাকবে এবং নারী-পুরুষ সমান অধিকার ভোগ করবে।