মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন (এমএসএফ) জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সচিবালয়ে গিয়ে ‘মব কালচার’ পুরোপুরি বন্ধ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এটি ছিল চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারির ঘটনা। তবে মন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, ‘মব কালচার’ শেষ তো হয়ইনি, বরং দেখা গেছে গত মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিল মাসে তা বেড়েছে। এই বেড়ে যাওয়ার প্রবণতার হিসাব দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনটি।
মব কালচারের সংজ্ঞা ও প্রভাব
মব কালচার বলতে বোঝায় জনতার দ্বারা সংঘটিত সহিংসতা, যেখানে একটি গোষ্ঠী কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়। এই ধরনের ঘটনা সমাজে আইনের শাসনকে দুর্বল করে এবং নাগরিকদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়ায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মব কালচার দীর্ঘমেয়াদে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।
এমএসএফের প্রতিবেদন
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, মার্চ মাসে মব কালচারের ঘটনা ছিল ১৫টি, যা এপ্রিল মাসে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২টিতে। অর্থাৎ, এক মাসের ব্যবধানে ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৪৭ শতাংশ। সংগঠনটি আরও জানিয়েছে, এসব ঘটনার বেশিরভাগই গুজব ও ভুল তথ্যের ভিত্তিতে সংঘটিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি মব কালচারের ঘটনা ঘটেছে রাজধানী ঢাকায় এবং এর আশপাশের এলাকায়। এছাড়া চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগেও কয়েকটি ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের মধ্যে নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষই বেশি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মব কালচার বন্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বললেও, বাস্তবে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অনেক সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি করেন বা কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মব কালচার বন্ধে শুধু আইন প্রয়োগই নয়, সামাজিক সচেতনতা ও শিক্ষারও প্রয়োজন।
মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন সরকারের কাছে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা বলেছে, মব কালচারকে পুরোপুরি বন্ধ করতে হলে দোষীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে গুজব রোধে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা জোরদার করারও পরামর্শ দিয়েছে সংগঠনটি।



