যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে শিশু সন্তানসহ কারাগারে প্রেরণ: আদালতের আদেশে মানবাধিকার প্রশ্ন
রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে গ্রেফতার যুব মহিলা লীগের নেত্রী মোসা. শিল্পী বেগমকে একমাস ১৬ দিন বয়সী শিশু সন্তানসহ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসেন মোহাম্মদ জোনাঈদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।
আইনজীবীর প্রতিক্রিয়া ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি। তিনি জানান, এমন নিষ্ঠুর নজির এদেশের মানুষ আজ দেখলো। যেখানে একজন মাকে তার একমাস ১৬ দিনের দুধের শিশুকে নিয়ে পুলিশ ধরে নিয়ে আসে। এর মাধ্যমে মা ও শিশুর মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গ্রেফতারের পটভূমি ও মামলার বিবরণ
এর আগে সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শিল্পী বেগমকে তার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় দায়ের করা এক মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুলের ওপর হামলার পর তার বাসায় হামলা ও পাঁচ লাখ টাকা লুটপাটের ঘটনায় শিল্পী বেগমের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
মামলার বিস্তারিত ও তদন্তের অগ্রগতি
ওই ঘটনায় গত বছরের ১ জানুয়ারি ভুক্তভোগীর মা শাহনূর খানম নামে একজন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জন এবং অজ্ঞাত আরও ১২০-৩০ জনের নামে মামলা করেন। তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম জানান, আসামি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেল হাজতে আটকে রাখা প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিশুর বিষয়ে আদালতের বিবেচনা
প্রসঙ্গত, আসামির কোলে থাকা শিশুর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেল কোড অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তটি আইনি প্রক্রিয়া ও মানবিক দিকগুলোর মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যদিও এটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



