নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হত্যা: র‌্যাব গ্রেফতার করেছে তিন আসামিকে
যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হত্যা: র‌্যাব গ্রেফতার তিন আসামি

নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূ হত্যা: র‌্যাব গ্রেফতার করেছে তিন আসামিকে

নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় র‌্যাব-১৩ তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে উপজেলার ধলাগাছ মতির মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামিদের আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়

গ্রেফতারকৃতরা হলেন রায়হান রিতু (৩০), জসিম (৩২) ও জিতু (৩৪)। তারা সবাই সৈয়দপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন। র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, নিহত শিমু আক্তারের (৩১) সঙ্গে রায়হান রিতুর প্রায় ১৩ বছর আগে বিয়ে হয়েছিল।

দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও হত্যার পটভূমি

বিয়ের পর থেকেই শিমু আক্তারকে যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবার যৌতুক দিতে ব্যর্থ হওয়ায় নির্যাতনের মাত্রা ক্রমেই বেড়ে যায়। গত ৯ এপ্রিল সকালে স্বামীর বাড়িতে শিমুকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে তাকে জোরপূর্বক বিষপান করানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গুরুতর অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১০ এপ্রিল রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ১২ এপ্রিল নিহতের বাবা সৈয়দপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি হত্যা মামলা করেন।

র‌্যাবের অভিযান ও গ্রেফতার

র‌্যাব-১৩ আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। এর ধারাবাহিকতায় অভিযান চালিয়ে পলাতক তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। র‌্যাব-১৩ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী বলেন, "যৌতুকসহ সামাজিক অপরাধ দমনে র্যাব সর্বদা তৎপর। এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হয়েছে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাবের এই সফল অভিযান সামাজিক অপরাধ দমনে তাদের প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সমাজে যৌতুকের অভিশাপ

এই ঘটনা সমাজে যৌতুক প্রথার ভয়াবহ পরিণতির又一次 চিত্র তুলে ধরেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতন শেষে হত্যার মতো জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হওয়ায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ এই ধরনের অপরাধ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।