নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় ‘ব্যাড টাচ’ ও যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় এক নারী বিক্রেতাকে বেধড়ক মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৮ জুন) ঘটনাটি ঘটলেও পুলিশ তাৎক্ষণিক মামলা নেয়নি। পরে একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (১০ জুন) পুলিশ মামলা গ্রহণ করে।
ভুক্তভোগীর বর্ণনা
নগরীর দেওভোগ পানির ট্যাংকি এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী (২৪) জানান, তিনি এক সময় ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন। হাত ভেঙে যাওয়ায় খেলা বাদ দিয়েছেন। বর্তমানে হোটেল ম্যানেজম্যান্টে পড়াশোনার পাশাপাশি বাড়ির অদূরের একটি দোকানে সেলসম্যান কাম-ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। তাদের দোকানের পাশের গলির পেছনের বাড়ির বাসিন্দা মোশারফ হোসেন সুমন (৪০) নিয়মিত ক্রেতা।
তিনি বলেন, “মোশারফ সুমন প্রায়ই দোকানে এসে অশ্লীল কথাবার্তা ও খারাপ অঙ্গভঙ্গি করত। নানা অজুহাতে শরীরে ‘ব্যাড টাচ’ করত। ফুটবল খেলতাম বলে আমি বয়কাট চুল রাখি, শার্ট-প্যান্ট পরি। এসব নিয়ে সে নানা কথা বলত। বাবার বয়সি এই ব্যক্তির এসব কাজের বেশ কয়েকবার প্রতিবাদ করেও লাভ হয়নি।”
ঘটনার বিবরণ
ওই তরুণী বলেন, গত সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় তিনি দোকানে আসেন। একপর্যায়ে মোশারফ তার শরীরে খোঁচা মেরে বিভিন্ন সদাইয়ের দরদাম করেন। তিনি প্রতিবাদ করলে তাকে স্পর্শকাতর স্থানে ‘ব্যাড টাচ’ করে ধাক্কা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি তার কলার চেপে ধরেন। তখন মোশারফ তাকে ধাক্কাতে ধাক্কাতে দোকানের শেষপ্রান্তে নিয়ে মাটিতে ফেলে প্রচণ্ড মারধর করে। একটু পরে চাল মাপার লোহার চোঙ নিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। আঘাতের ফলে তার মাথা ফেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন।
দোকানের আরেক নারী বিক্রেতা সুমাইয়া আক্তার জানান, “মোশারফ সুমন শুধু ওকে নয়, আমাকেও বিভিন্ন সময়ে উত্ত্যক্ত করতেন। অনেক দিনের ক্ষোভ একসাথে হয়ে ও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। লোকটার কলার চেপে ধরে। তখন লোকটা ওকে নির্মমভাবে মারে। ওর মাথা ফেটে দোকান ভেসে যায়। আমি কোনোরকমে ওড়না চেপে ওকে বাসায় পৌঁছে দেই। পরে বাসা থেকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।”
দোকান মালিকের বক্তব্য
দোকান মালিক কেএম মোসলে উদ্দিন জানান, “অহেতুক মেয়েটাকে মেরে রক্তাক্ত করেছে। পুলিশ এসে তদন্ত করে গেছে।”
পরিবারের অভিযোগ
আক্রান্ত মেয়েটির মা ও ভাই জানান, “মাথা ফাটিয়ে দেওয়ার পর তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতেও বাধা সৃষ্টি করে। এখন আমাদের নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওকে নিয়ে অশ্লীল কমেন্ট করছে।”
অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া
অভিযুক্ত মোশারফ হোসেন সুমন বলেন, “ও যে মেয়ে এটা আমি জানতাম না। ঘটনার সন্ধ্যায় জানতে পারি। সব সময় শার্ট পড়ে থাকে, বয়কাট চুল। ওই দিন আমি ওকে পণ্য দিতে বললে ও প্রথমেই আমাকে বলে, শরীরে হাত দিয়ে কথা বলেন কেন। আমি বললাম, তুমি বাবা বাচ্চা মানুষ তোমার শরীরে হাত দিলে কী হয়েছে? এরপর সে আগে আমার কলার চেপে ধরে। তখন রেগে গিয়ে তাকে মারধর করি। পরে তার মায়ের কাছে গিয়ে আমি মাফও চেয়েছি।” মেয়েটিকে চিকিৎসা নিতে বাধা সৃষ্টি করা ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
পুলিশের অবস্থান
ফতুল্লা থানার ওসি মোহাম্মদ মাহবুব আলম জানান, “অভিযোগ পেয়ে পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত করেছে। বুধবার এ ব্যাপারে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিকে দ্রুত গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হবে।”



