রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানাকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আজ রোববার সকালে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্না আক্তারকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।
রায়ে সন্তুষ্টি উভয় পক্ষের
রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, ‘অপরাধীরা তাঁদের অপরাধের বিচার পেয়েছে। আমি সন্তুষ্ট।’ তিনি আরও জানান, সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, ‘এই মামলার রায় চার কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে এই রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে এ ধরনের অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই রায়ে আমরা প্রসিকিউশন পক্ষ সন্তুষ্ট।’
দ্রুত বিচার ও রায়
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, একটি রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ হলো শিশুদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ আবাস তৈরি করা এবং তাদের রক্ষা করা। কোনো শিশুর ওপর যখন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটে, রাষ্ট্র তখন অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে বিচারকাজ শেষ করতে সহায়তা করে, যা অবশ্যই একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। এই মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার। আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।
ঘটনার বিবরণ
শিশুটি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় গত ১৯ মে। ওই দিন পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়। তার আগেই ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে তখনই আটক করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা হলো।
মামলা ও জবানবন্দি
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। এ মামলায় ১ জুন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
ঘোষণা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রথম আলোর নীতিমালা অনুসারে এই প্রতিবেদনে শিশুটি ও তার মা–বাবার নাম, পরিচয় দেওয়া হলো না।



