কনস্টেবলের মেয়ে অপহৃত নয়, প্রেমিকের সঙ্গেই গেছেন
কনস্টেবলের মেয়ে অপহৃত নয়, প্রেমিকের সঙ্গেই গেছেন

বগুড়ার আদমদীঘি থানার কনস্টেবল রানা মাসুদের মেয়ে (১৭) অপহৃত হননি; বরং তিনি স্বেচ্ছায় প্রেমিক শহিদ হোসেনের সঙ্গে বাড়ি ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমানের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় প্রাইভেট পড়তে গিয়ে নিখোঁজ হন কনস্টেবলের মেয়ে। এ ঘটনায় জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার সোনাপুর গ্রামের আলম হোসেনের ছেলে শহিদ হোসেনসহ (১৮) কয়েকজনের বিরুদ্ধে আদমদীঘি থানায় মামলা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বাবুল আক্তার ভিকটিমকে উদ্ধার করে আদালতে তার ২২ ধারা মোতাবেক জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করান। আদালতের মাধ্যমে ভিকটিমকে বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়।

ভিকটিমের বক্তব্য

আদালতের ২২ ধারার জবানবন্দিতে ভিকটিম জানান, আসামি শহিদ হোসেনের সঙ্গে তার চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক। তিনি গত ২৬ ফেব্রুয়ারি শহিদের সঙ্গে গিয়ে বিয়ে করেছেন এবং স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর-সংসার করছেন। ভিকটিমের বয়স ১৭ বছর হওয়ায় এবং ডাক্তারি পরীক্ষার মতামতের ভিত্তিতে তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ৩০ এপ্রিল শহিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিকটিম গত ১ মে সকাল ৭টায় আবারও শহিদের সঙ্গে বাড়ি থেকে চলে যান। এরপর তার বাবা আদালতে অভিযোগ করলে আদালতের নির্দেশে ৭ মে আদমদীঘি থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়। বর্তমানে মামলাটি বগুড়া ডিবি পুলিশের তদন্তাধীন এবং ভিকটিম উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলমান।

ভিকটিমের ফেসবুক লাইভ

ভিকটিম তার ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে বলেন, তিনি অপহৃত হননি; এ সংক্রান্ত মামলা মিথ্যা, ভুল ও বানোয়াট। তার বাবা পুলিশের কনস্টেবল হয়েও নিজের মেয়ের নামে মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছেন। চার বছরের সম্পর্কে তিনি শহিদকে বিয়ে করেছেন। তার বাবা ও পরিবারের সদস্যরা এ বিয়ে মেনে নিচ্ছেন না এবং স্বামীর নামে পোস্টার ছাপাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, এর আগেও তিনি বাড়ি থেকে চলে এসেছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিকটিম অভিযোগ করেন, শ্বশুরবাড়ি থেকে তার শ্বশুর ও শাশুড়িকে মারধর করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

পুলিশের বক্তব্য

আদমদীঘি থানার ওসি কামরুজ্জামান মিয়া জানান, পুলিশ সদস্যের মেয়ে ভিকটিম এর আগেও ওই ছেলের সঙ্গে ৩-৪ বার স্বেচ্ছায় পালিয়ে যান। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছিল। এছাড়া পুলিশ সদস্য ছুটি ছাড়াই গত ১৮ মে থেকে থানায় গরহাজির রয়েছেন।

বগুড়া পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) আতাউর রহমান জানান, আদমদীঘি থানার কনস্টেবল মাসুদ গত ১৮ মে থেকে অনুপস্থিত রয়েছেন। তিনি ইচ্ছাকৃত অনুপস্থিত থাকলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।