কুমিল্লার লাকসামে ফিল্মি স্টাইলে এক কিশোরীকে (১৬) তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার (১ জুন) রাতে উপজেলার হারাখাল গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে ওই কিশোরীকে তুলে নেওয়া হয়।
ঘটনার বিবরণ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি ডুপ্লেক্স ভবনের ছাদ থেকে এক কিশোরীকে কাঁধে করে নিচে নামিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন কয়েকজন। এ সময় বাড়ির আঙিনা ও ভবনের আশপাশে বেশকিছু লোকজনের উপস্থিত দেখা গেছে। তুলে নেওয়ার সময় কিশোরীকে শান্ত দেখা গেছে। এ সময় কিশোরীর পরিবারের সদস্যরা চিৎকার করলেও আশপাশের লোকজন বাধা প্রধান করেনি।
পটভূমি ও আইনি প্রক্রিয়া
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, লাকসাম উপজেলার হারাখাল এলাকার ওই কিশোরীর সঙ্গে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার মো. মাসুদ রানা (৩২) নামের এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। উভয়েই পূর্ব পরিচিত। একপর্যায়ে দুজন পালিয়ে বিয়ে করেন। মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার পরিবার মাসুদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করে। মামলার পর পুলিশ দুজনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করেন। আদালত মাসুদ রানাকে কারাগারে পাঠিয়ে কিশোরীকে তার পরিবারের জিম্মায় দেন। মাসুদ রানা সম্প্রতি জামিনে বের হন। সোমবার রাতে মাসুদ লোকজন নিয়ে এসে ওই কিশোরীকে নিয়ে যান।
পরিবারের অভিযোগ
ওই কিশোরীর মা জানান, রাতে মাসুদসহ কয়েকজন তাদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধর করে। পরে জোরপূর্বক তার মেয়েকে নিয়ে যায়। হামলার সময় নগদ ১৭ লাখ টাকা ও ৩২ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে লাকসাম থানার ওসি কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, তুলে নেওয়ার ক্ষেত্রে কিশোরীর সম্মতি থাকতে পারে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। ওই কিশোরীর সঙ্গে মাসুদের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তারা দুজন পালিয়ে বিয়ে করেছে। কিন্তু মেয়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় পরিবার অপহরণ মামলা করলে মাসুদকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। জামিনে বের হয়ে আবার মাসুদ তাকে নিয়ে যায়। ওসি বলেন, এ ঘটনায় কিশোরীর পরিবার পুনরায় থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।



