গুমের শিকারদের জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে ১৪ সংগঠনের বিবৃতি
গুমের শিকারদের জন্য ন্যায়বিচার চেয়ে ১৪ সংগঠনের বিবৃতি

আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা বিবৃতির একাংশের স্ক্রিনশটগুমের শিকার ব্যক্তি এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের জন্য সত্য, ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কাজ করা ১৪ দেশি-বিদেশি সংগঠন। সেই সঙ্গে গুমের ঘটনার যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই নিশ্চয়তা চেয়েছে সংগঠনগুলো।

গুম সপ্তাহ উপলক্ষে যৌথ বিবৃতি

গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক সপ্তাহ উপলক্ষে মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানিয়েছে ১৪টি সংগঠন। মতপ্রকাশের অধিকার নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন তাদের ওয়েবসাইটে বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবছর ২৫ থেকে ৩১ মে বিশ্বজুড়ে এই সপ্তাহ পালন করা হয়।

বিবৃতি প্রদানকারী সংগঠনসমূহ

বিবৃতি দেওয়া ১৪টি সংগঠন হলো অ্যান্টি-ডেথ পেনাল্টি এশিয়া নেটওয়ার্ক (এডিপিএএন), আর্টিকেল নাইনটিন, এশিয়ান ফেডারেশন এগেইনস্ট ইনভলেন্টারি ডিসঅ্যাপেয়ারেন্সেস (এএফএডি), ওয়ার্ল্ড অ্যালায়েন্স ফর সিটিজেন পার্টিসিপেশন (সিভিকাস), এশিয়ান ফোরাম ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফোরাম-এশিয়া), ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট জাস্টিস প্রজেক্ট, ফোর্টিফাই রাইটস, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ), ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিশন এগেইনস্ট এনফোর্সড ডিসঅ্যাপেয়ারেন্সেস (আইসিএইডি), ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন ফর হিউম্যান রাইটস (এফআইডিএইচ), অধিকার, ওমেগা রিসার্চ ফাউন্ডেশন, রবার্ট অ্যান্ড এথেল কেনেডি হিউম্যান রাইটস সেন্টার এবং ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন এগেইনস্ট টর্চার (ওএমসিটি)।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গুমের পেছনের কারণ ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি

বিবৃতিতে সংগঠনগুলো বলেছে, বাংলাদেশে গুমের ঘটনা চলে আসার একটি বড় কারণ হলো রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এসব কর্মকাণ্ডকে কার্যত প্রশ্রয় দিয়েছে। সেই সঙ্গে নিরাপত্তাকেন্দ্রিক বয়ানগুলো বেআইনি কর্মকাণ্ডকে স্বাভাবিক করতে, সেগুলোকে শাসনকাঠামোর মধ্যে কার্যকরভাবে গেঁথে দিতে সহায়তা করেছে।

দায়মুক্তির সংস্কৃতি গভীরভাবে গেঁথে গিয়েছিল। দমনপীড়নকে বৈধতা দিতে এবং অপরাধীদের আড়াল করতে বিচারব্যবস্থাকে ব্যবহার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এমন ছিল যে বেঁচে ফেরা ব্যক্তিরা ভয়ভীতির মুখোমুখি হতেন। নিজেদের নির্যাতনের কথাগুলো বলার জন্য তাঁরা সামনে আসতে চাইতেন না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে এসব সংগঠন।

সরকারের প্রতি আহ্বান

সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের প্রতি গুমকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে একটি ব্যাপকভিত্তিক আইন প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড না রাখার দাবি জানিয়েছে তারা।

সেই সঙ্গে ভুক্তভোগী এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের জন্য ন্যায়বিচার প্রাপ্তি এবং পূর্ণাঙ্গ ক্ষতিপূরণ, সন্তুষ্টি, পুনর্বাসন আর মনোসামাজিক সহায়তার ব্যবস্থা করতে আহ্বান জানানো হয়েছে। গুমের পুনরাবৃত্তি না ঘটার নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী ও সুশীল সমাজের অংশগ্রহণের ভিত্তিতে এই প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবিও জানানো হয়েছে।

আইনি স্বীকৃতি ও সুরক্ষা

গুমের শিকার ব্যক্তিদের আইনি স্বীকৃতি এবং ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সুরক্ষা নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে। সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর সদস্যরা যাতে ভুক্তভোগীদের ব্যাংক হিসাবে লেনদেন, অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তি ব্যবহার এবং সরকারি নথিপত্র পেতে পারে, সে জন্য এটা করতে বলা হয়েছে।

মামলা প্রত্যাহার ও তদন্তের দাবি

ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব সাজানো মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো। সেই সঙ্গে অন্যায়ভাবে আটক থাকা ব্যক্তিদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। গুমের সব ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত পরিচালনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা না দেখে দোষীদের বিচারের দাবিও জানানো হয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ক্ষমতায়ন

গুমের ঘটনার তদন্ত যাতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন স্বাধীনভাবে করতে পারে, সে জন্য আরও শক্তিশালী আইন করার ওপর জোর দিয়েছে ১৪টি সংগঠন। সেই সঙ্গে গুমের পর সীমান্ত পেরিয়ে স্থানান্তরিত বা আটক হয়ে থাকতে পারেন, এমন যেকোনো বাংলাদেশি নাগরিকের অবস্থান নির্ণয়ের জন্য ভারতের সঙ্গে স্বচ্ছ কূটনৈতিক সংযোগ স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনগুলো।