রাজশাহী মহানগরীতে এক শিশুকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। তবে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) ট্রাফিক বিভাগের এক কনস্টেবলের সতর্কতা ও তৎপরতায় সেই অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে এবং ঘটনায় জড়িত এক ব্যক্তিকে আটক করেছে।
উদ্ধার হওয়া শিশুর পরিচয়
উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম রিয়ান হোসেন তাহা (১১)। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র। তার বাবা সাখাওয়াত হোসেন রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের একজন কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত।
ঘটনার বিবরণ
জানা গেছে, সোমবার (১৮ মে) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তাহা কোচিং করার জন্য নগরের কাদিরগঞ্জ এলাকায় যাচ্ছিল। সে সিঅ্যান্ডবি মোড় থেকে একটি অটোরিকশায় ওঠে। অটোরিকশাটি লক্ষ্মীপুর মোড়ে পৌঁছালে অভিযুক্ত বাবুল (৪৮) তাকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে নিজের সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয়
অভিযুক্ত বাবুল রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) ক্যাম্পাস এলাকার বাসিন্দা। তিনি রামেক হাসপাতালে সুইপার হিসেবে কর্মরত। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
পুলিশের ভূমিকা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক কনস্টেবল হাবিবুর রহমান হাবিব বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করেন। তিনি দেখেন, বাবুল শিশুটিকে নিয়ে যাচ্ছেন। তখন শিশুটির পরিচয় জানতে চাইলে বাবুল একবার তাকে নিজের ভাই এবং আরেকবার ছেলে বলে পরিচয় দেন। তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিলে ট্রাফিক পুলিশ তাকে আটক করে ট্রাফিক বক্সে নিয়ে যায়। পরে তাকে রাজপাড়া থানায় পাঠানো হয়।
শিশুটির পরিবারের কাছে হস্তান্তর
শিশুটির কাছ থেকে তার বাবার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে পুলিশ। পরে সাখাওয়াত হোসেন ঘটনাস্থলে এসে ছেলেকে বুঝে নেন। সন্ধ্যায় তিনি ছেলেকে নিয়ে রামেক হাসপাতালে যান। সেখানে চিকিৎসক শিশুটিকে ২৪ নম্বর ওয়ার্ডে পাঠান এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখেন।
পরিবারের সন্দেহ
সাখাওয়াত হোসেন জানান, অটোরিকশায় বসা অবস্থায় বাবুল তার ছেলের কানের কাছে হাত নিয়েছিলেন। তখন তার ছেলে হাত সরিয়ে দেয়। এরপর থেকে অভিযুক্ত ব্যক্তি যা বলছিল, তার ছেলে তা-ই করছিল। এ কারণে তার সন্দেহ, কোনও কিছু প্রয়োগ করে ছেলেকে বেহুশ বা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে চিকিৎসক শারীরিকভাবে সুস্থ থাকায় কোনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা দেননি। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাদের পরামর্শে তিনি রাজপাড়া থানায় মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
আটক ব্যক্তি ও মামলার প্রক্রিয়া
রাজপাড়া থানায় গিয়ে দেখা যায়, আটক বাবুলকে হাজতে রাখা হয়েছে। রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছে। শিশুর বাবা মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাবুল পেশায় সুইপার এবং অতীতে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনও অভিযোগ বা রেকর্ড পাওয়া যায়নি। ঘটনার সময় তিনি মদ্যপ ছিলেন। কী উদ্দেশ্যে শিশুটিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।'



