রাজধানীর মিরপুরের হযরত শাহ আলী (র.) মাজার এলাকায় হামলা ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঢাকা মহানগর উত্তর। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে দলের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মনসুরের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ জানানো হয়।
আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক সম্প্রীতি নিয়ে শঙ্কা
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থানে এ ধরনের হামলা শুধু আইনশৃঙ্খলার অবনতিকেই নির্দেশ করে না; বরং এটি সামাজিক সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও জননিরাপত্তার জন্যও অশনিসংকেত। আমরা মনে করি, কোনও মতপার্থক্য কিংবা চর্চাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও হামলার পথ কখনও গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার আহ্বান
সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি এনসিপি-ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বান, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করে অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
মাজারকে সম্প্রীতির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, মাজারকে কেবল একটি ধর্মীয় উপাসনা বা চর্চার কেন্দ্র হিসেবে দেখার পরিবর্তে এটি যেন ধর্ম, গোত্র ও মতভেদ নির্বিশেষে সব মানুষের জন্য সামাজিক, মানবিক ও সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির একটি উন্মুক্ত কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা জরুরি। যুগ যুগ ধরে এ ধরনের স্থান আমাদের সমাজে পারস্পরিক সহাবস্থান, শ্রদ্ধাবোধ ও মানবিক সংযোগের প্রতীক হিসেবে ভূমিকা পালন করে এসেছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিতের দায়িত্ব
একইসঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত দর্শনার্থী, ভক্ত ও সাধারণ মানুষের জন্য মাজার এলাকাকে একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও সহনশীল আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন। ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এসব কেন্দ্রকে ঘিরে যেন ভয়, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলার পরিবেশ সৃষ্টি না হয় তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজ উভয়েরই দায়িত্ব।
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে কিছু লোক লাঠিসোটা নিয়ে মাজারে থাকা লোকজনের ওপর হামলা চালায়। তবে পুলিশ বলছে, মাজারে হামলার ঘটনা ঘটেনি; মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযান চালায় স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা।



