আজহারীর ডিপফেক ভিডিও মামলায় দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড
আজহারীর ডিপফেক মামলায় দুই আসামির তিন দিনের রিমান্ড

ইসলামি বক্তা শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ডিপফেক’ ভিডিও তৈরি এবং যৌন উত্তেজক পণ্য বিক্রির মাধ্যমে প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার দুই আসামিকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছিদ্দিক আজাদের আদালত এ আদেশ দেন।

গ্রেফতার আসামিরা

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন, মো. আব্দুর রহমান মানিক ওরফে রাহাত (২৮) এবং ফুরকান মিয়া (২২)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে পল্টন মডেল থানা পুলিশ এই দু’জনকে গ্রেফতার করে।

আদালতে শুনানি

এদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার এসআই সামিম হাসান আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারক প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিমান্ডের কারণ

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল জালিয়াতি করে আসছিল। এই চক্রটি দেশব্যাপী সক্রিয় এবং তারা ফেসবুক বিজ্ঞাপনের জন্য ডলারের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধ করতো। এসব যৌন উত্তেজক ওষুধ তৈরিতে আরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত, বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত ডলারের উৎস খোঁজা, অর্থ লেনদেনের বণ্টন প্রক্রিয়া নিশ্চিত হওয়া এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য তাদেরকে জিজ্ঞেসাবাদ করা প্রয়োজন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগের বিবরণ

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, গ্রেফতারকৃত চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে ডিজিটাল জালিয়াতি চালিয়ে আসছিল। তারা জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা শায়খ ড. মিজানুর রহমান আজহারীর ছবি ও কণ্ঠ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ এবং ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তির সাহায্যে তার চেহারা ও কণ্ঠ হুবহু নকল করতো। পরবর্তীতে সেই ভুয়া ভিডিওতে ড. আজহারীর কণ্ঠ ব্যবহার করে ‘ইউরোসিন’ নামক একটি যৌন উত্তেজক ওষুধের প্রচারণা চালাতো।

সাধারণ মানুষ ‘আজহারী’র কথায় বিশ্বাস করে এসব পণ্যকে সত্য মনে করে অর্ডার দিতেন। আসামিরা ‘আজহারী শপ’, ‘ডক্টর সেবা’, ‘হালাল শপ’সহ প্রায় ২৪টিরও বেশি ভুয়া ফেসবুক পেজ এবং ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব ভিডিও বুস্ট করে প্রচারণা চালাতো। এরপর ‘পাঠাও’ ও ‘স্টিডফাস্ট’ কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ক্যাশ অন ডেলিভারিতে পণ্য পাঠিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিতো।