যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির আওতায় জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিদর্শনের সুযোগ পাবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি। শুক্রবার (২৬ জুন) জাপানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
চুক্তি বাস্তবায়নে পরিদর্শন আবশ্যক
গ্রোসি বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে আইএইএকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশাধিকার দিয়ে পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে। তিনি বলেন, ‘একটি চুক্তি হয়েছে। সেই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য আইএইএকে অবশ্যই প্রবেশাধিকার ও পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে। আমরা আশা করছি, খুব শিগগিরই সেখানে যেতে পারব।’
তবে গ্রোসির এই বক্তব্যের আগে ইরান জানায়, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলো আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না।
যাচাই ব্যবস্থার ওপর জোর
রাফায়েল গ্রোসি বলেন, চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা। ইরান সরকার বারবার দাবি করেছে যে তাদের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো উদ্দেশ্য নেই। তবে শুধু ঘোষণাই যথেষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। গ্রোসি বলেন, ‘উদ্দেশ্যের ঘোষণা যথেষ্ট নয়। আমাদের একটি শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য যাচাই ব্যবস্থা প্রয়োজন।’ তার মতে, মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যত দ্রুত সম্ভব এমন একটি যাচাই ব্যবস্থা কার্যকর করা উচিত।
প্রাথমিক আলোচনা শুরু
আইএইএ প্রধান জানান, ইতোমধ্যে সংস্থাটির পরিদর্শকরা ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রযুক্তিগত বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা করেছেন। তিনি বলেন, ইরান সফরের প্রথম লক্ষ্য হবে আগে পরিদর্শন করা পারমাণবিক উপকরণে আইএইএর লাগানো সিল অক্ষত রয়েছে কিনা, তা যাচাই করা। পাশাপাশি কোনো পারমাণবিক উপাদান নিখোঁজ হয়েছে কিনা, সেটিও পরীক্ষা করা হবে। এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর কত পরিমাণ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অক্ষত রয়েছে বা সেগুলো কোথায় রাখা হয়েছে—এ বিষয়ে আইএইএকে কোনো তথ্য দেয়নি ইরান।
ইরানের আপত্তি
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে আগামী ৬০ দিন ধরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা চালানোর পথ তৈরি হয়েছে। তবে বুধবার ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। তেহরানের অবস্থান হলো, ওয়াশিংটনের সঙ্গে চূড়ান্ত সমঝোতা এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আগে গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।
ইউরেনিয়াম মজুতের পরিমাণ
আইএইএর হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাত শুরুর আগে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ৪৪০ দশমিক ৯ কেজি ইউরেনিয়াম মজুত ছিল। সংস্থাটির মানদণ্ড অনুযায়ী, ওই ইউরেনিয়াম আরও সমৃদ্ধ করা হলে তা প্রায় ১০টি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির জন্য যথেষ্ট হতে পারে। রাফায়েল গ্রোসি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যে শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে এবং কোনো পারমাণবিক উপাদান অন্য কাজে সরিয়ে নেওয়া হয়নি, তা নিশ্চিত করতেই এই যাচাই কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



