প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমান চারদিনের সরকারি সফর শেষে শুক্রবার বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এই সফরে তিনি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক, বিনিয়োগ আলোচনা এবং ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছেন।
প্রস্থান ও বিদায়
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ১৫ মিনিটে) বেইজিং দাক্সিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে প্রধানমন্ত্রী, তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও সফরসঙ্গীরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
চীনা প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ইউয়ে জিয়াওয়ং, সিনিয়র চীনা সরকারি কর্মকর্তা ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির নেতারা বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান। গাড়ি থেকে নেমে প্রধানমন্ত্রী ও জুবাইদা রহমান লাল গালিচা বেয়ে বিমানে ওঠেন। চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ১৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
শীর্ষ বৈঠক ও সমঝোতা স্মারক
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর শেষ হয় শুক্রবার সকালে পিপলস গ্রেট হলে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর। এ সময় দুই নেতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, সংযোগ এবং পারস্পরিক স্বার্থের অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এর আগে, তারিক রহমান তিয়ানআনমেন স্কয়ারের পিপলস হিরোস মনুমেন্টে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে চীনা বিপ্লবী বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।
বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী চীনা প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। দুই পক্ষ বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, পানি সম্পদ ও অন্যান্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করে। বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও চীনা ব্যবসায়িক সংগঠনের মধ্যে আরও তিনটি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ফলে সফরের সময় মোট ১৭টি চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।
বিনিয়োগ ও অন্যান্য সভা
বেইজিংয়ে অবস্থানকালে তারিক রহমান চীনের পানি সম্পদ মন্ত্রী লি গুওইং এবং সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিংয়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন। তিনি 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ' সম্মেলনে বক্তৃতা দেন, যেখানে তিনি চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আমন্ত্রণ জানান। বেশ কয়েকটি শীর্ষ চীনা কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহীরাও তার সঙ্গে বিনিয়োগের সুযোগ ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
ডালিয়ান ও মালয়েশিয়া সফর
প্রধানমন্ত্রী বুধবার ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের নিউ চ্যাম্পিয়ন্স বার্ষিক সভা (সামার দাভোস) থেকে ডালিয়ান থেকে উচ্চগতির ট্রেনে বেইজিং পৌঁছান। ফোরামে তিনি জলবায়ু নেতৃত্ব বিষয়ক একটি অধিবেশনে বক্তৃতা দেন, পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে অংশ নেন এবং ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সভাপতি ও সিইও অ্যালোইস জুইংগিসহ বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।
চীন সফরের আগে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১-২২ জুন দুই দিনের সরকারি সফর করেন। সে সফরে তিনি প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক, রাজা সুলতান ইব্রাহিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ, বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং পাঁচটি শীর্ষ মালয়েশিয়ান কোম্পানির নির্বাহীদের সঙ্গে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বৈঠক করেন। তিনি ২২ জুন রাতে কুয়ালালামপুর থেকে সরাসরি ডালিয়ান যান।
সফর সফল বলে মন্তব্য
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদি আমিন চীন সফরকে অত্যন্ত সফল বলে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং অন্যান্য সিনিয়র চীনা নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং চীনা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো, সংযোগ ও উন্নয়নে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।



