সোমালিল্যান্ডের মন্ত্রিপরিষদ ইসরায়েলের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত সহযোগিতা বিষয়ক একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা সর্বসম্মতভাবে অনুমোদন করেছে। বুধবার (১ জুলাই) সোমালিল্যান্ডের রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে নতুন এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিটি মূলত দুই দেশের মধ্যকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আর্থিক বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি মজবুত ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
প্রেসিডেন্টের ইসরায়েল সফর ও চুক্তির প্রেক্ষাপট
দেশটির প্রেসিডেন্ট আবদিরাহমান মোহাম্মদ আবদুল্লাহি গত জুন মাসে ইসরায়েল সফরের সময় এই বিশেষ অংশীদারিত্বের কথা জনসমক্ষে প্রকাশ করেছিলেন। এই সফরকালে তিনি ইসরায়েলি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং কৌশলগত সহযোগিতার রূপরেখা চূড়ান্ত করেন।
ইসরায়েলের স্বীকৃতি ও কৌশলগত উদ্দেশ্য
উল্লেখ্য যে ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করা সোমালিল্যান্ডকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি প্রদান করেছে ইসরায়েল। আন্তর্জাতিক সামরিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে গত বছর ইসরায়েলের দেওয়া এই বিশেষ কূটনৈতিক স্বীকৃতির পেছনে একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত উদ্দেশ্য রয়েছে।
লোহিত সাগরে সামরিক অবস্থান ও ইরান-হুথি মোকাবিলা
লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বারে অবস্থিত এডেন উপসাগরে নিজেদের একটি শক্তিশালী সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান নিশ্চিত করতেই মূলত ইসরায়েল সোমালিল্যান্ডের সঙ্গে এই মিত্রতা গড়ে তুলেছে। এই অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার মাধ্যমে ইসরায়েল মূলত ইরান এবং তার আঞ্চলিক সহযোগী ও ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও সামরিক কার্যক্রম কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে চাইছে।
সোমালিল্যান্ডের মন্ত্রিপরিষদের এই অনুমোদনের ফলে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সূত্র: আল জাজিরা



