মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতের সভা, তীব্র সমালোচনা
মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে জামায়াতের সভা, তীব্র সমালোচনা

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া মসজিদে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশ করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামী। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে ভাইরাল হলে উপজেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। মসজিদের ভেতরে এ ঘটনায় সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) মাগরিবের নামাজের পর পীরগঞ্জ উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের চকপাড়া জামে মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল প্রবেশ করে দলীয় সভা শুরু করেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। দলীয় সভা থেকে জামায়াত নেতা মনোহর বাদশাকে ইমাদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন উপজেলা জামায়াতের আমির আসাদুজ্জামান শিমুল।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের উপজেলা সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম, উপজেলা নায়েবে আমির আব্দুল বাছেত হারুন, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি গোলাম আজমসহ শতাধিক নেতাকর্মী। নেতারা জামায়াত নেতা মনোহর বাদশাকে হাত উঁচিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে ইমাদপুর ইউনিয়নকে ইসলামের ঘাঁটি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার ঘোষণা দেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে সভা করার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা। আল নাহিয়ান অভি নামে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "মসজিদকে পার্টি অফিস বানিয়ে ফেলছে মোনাফেকগুলা।" আতিকুর রহমান লেবু নামে আরেক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, "মসজিদ আল্লাহর ঘর, এখানে কিসের ভণ্ডামি? এরা ইসলামের নামে ভণ্ডামি শুরু করেছে।" এভাবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ঘটনা নিয়ে চলছে তীব্র আলোচনা সমালোচনা।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া

চকপাড়া এলাকার বাসিন্দা নয়ন বলেন, "জামায়াতে ইসলামী মসজিদের ভেতরে চেয়ার-টেবিল বসিয়ে দলীয় প্রোগ্রাম করে মসজিদের আদব লঙ্ঘন করেছে। এটা নিন্দনীয় কাজ। আমরা এলাকাবাসী এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।"

মিঠাপুকুর উপজেলার হুলাশুগঞ্জ জামিয়া কুরআনিয়া দারুল উলুম মাদ্রাসার পরিচালক মুফতি মাসুদুর রহমান কাসেমী বলেন, "আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রোগ্রামে সাধারণত অন্য দলের সমালোচনা করা হয়ে থাকে। যা গিবতের পর্যায়ে পড়ে। মসজিদের ভিতরে তো গিবত করার সুযোগ নাই। এ ছাড়া চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে দলীয় প্রোগ্রাম করাকালে মসজিদের সৌন্দর্যহানি হয়ে থাকলে এটি আদবের লঙ্ঘন হয়েছে।"

জামায়াতের ব্যাখ্যা

সার্বিক বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আসাদুজ্জামান শিমুল বলেন, "আমরা মসজিদ ভিত্তিক প্রোগ্রামগুলো করি, তবে এভাবে প্রোগ্রাম করি না। মসজিদটা গ্রামের মধ্যে একদম বাড়ির সঙ্গে, সেসময় কোনও লোকজন ছিল না। এ জন্য ব্যবহার করেছি। ইসলামের দৃষ্টিতে মসজিদ হচ্ছে সংসদ। সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষ এটাকে ভালোভাবে নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে সমালোচনা করছেন বলে শুনেছি। সামনের দিকে আমরা বিষয়টা খেয়াল রাখবো।"