পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) আগামী ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর (এজেকে) আইনসভা নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পিটিআইয়ের বয়কটের কারণ
পিটিআইয়ের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে পিটিআই নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে না। বিবৃতিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক লাভ-লোকসানের জন্য নয়; বরং কাশ্মীরের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং গণতন্ত্রের প্রতি সম্মান জানাতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পিটিআই পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দল।
দলটি জানায়, নিষিদ্ধ ঘোষিত জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)-এর চলমান আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে আজাদ কাশ্মীরে স্বাধীন, ন্যায়সঙ্গত ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা নির্বাচনে অংশ নেবে না।
জেএএসি নিষিদ্ধ ও আন্দোলন
উল্লেখ্য, গত ৫ জুন সহিংস বিক্ষোভের অভিযোগে আজাদ কাশ্মীর সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় জেএএসি-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর কয়েক দিন পর, ৯ জুন সংগঠনটি একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। তাদের দাবি ছিল, ১৯৪৭ সালের পর পাকিস্তানে চলে আসা ভারত-নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিল করতে হবে।
পিটিআই আরও দাবি করেছে, আজাদ কাশ্মীর বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্যে রয়েছে। রাওয়ালাকোটসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো মানুষ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। দলটি রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ার আগেই কাশ্মীরিদের দাবি-দাওয়ার দ্রুত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।
খাদ্য সরবরাহ বন্ধের অভিযোগ
এ ছাড়া পিটিআই অভিযোগ করেছে, পাঞ্জাব থেকে আজাদ কাশ্মীরে খাদ্য সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে কয়েক দিন আগে পাকিস্তানের ফেডারেল সরকার ও আজাদ কাশ্মীর পুলিশের প্রধান এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন। পিটিআই আরও জানিয়েছে, দলের পার্লামেন্টারি বোর্ড প্রার্থীদের মনোনয়ন (টিকিট) দেওয়ার সব ধরনের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করেছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আর কোনো অগ্রগতি হবে না।



