আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম খান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা চেয়েছেন। একইসঙ্গে হামাসের শীর্ষ তিন নেতা ইসমাইল হানিয়া, ইয়াহিয়া সিনওয়ার ও মোহাম্মদ দেইফের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আবেদন করেছেন তিনি।
অভিযোগের বিবরণ
করিম খানের দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু ও গ্যালান্টের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে হামাস নেতাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে। প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলা ও তার পরবর্তী গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের ঘটনায় এসব অভিযোগ আনা হয়েছে।
আইসিসির ভূমিকা
আইসিসি যুদ্ধাপরাধ, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ ও গণহত্যার বিচার করে থাকে। তবে ইসরায়েল আইসিসির সদস্য নয় এবং তারা আদালতের এখতিয়ার স্বীকার করে না। অন্যদিকে ফিলিস্তিন ২০১৫ সালে আইসিসিতে যোগ দেয়। করিম খানের এই আবেদন আইসিসির প্রাক-বিচার প্যানেলের বিচারকদের কাছে গৃহীত হলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হবে।
করিম খান বলেন, ‘আমরা অভিযোগ করছি যে ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘন করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইচ্ছাকৃত হামলা, অনাহারকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার এবং অন্যান্য যুদ্ধাপরাধ সংঘটিত হয়েছে।’
প্রতিক্রিয়া
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই আবেদনকে ‘ঐতিহাসিক লজ্জা’ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আইসিসির এই সিদ্ধান্ত ইহুদি রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে এক ধরনের বৈষম্য।’ অন্যদিকে হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আইসিসির এই পদক্ষেপ অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, ‘আইসিসির এই আবেদন শান্তি প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।’ অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে।
আইনি প্রক্রিয়া
আইসিসির প্রসিকিউটরের আবেদনের পর প্রাক-বিচার প্যানেলের তিন বিচারক পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হবে কি না। এই প্রক্রিয়ায় সাধারণত কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস সময় লাগে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে আইসিসির সদস্য রাষ্ট্রগুলো নেতানিয়াহু বা হামাস নেতাদের গ্রেপ্তার করতে বাধ্য হবে।
করিম খান বলেন, ‘আমাদের কাছে পর্যাপ্ত প্রমাণ আছে যে এই ব্যক্তিরা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য দায়ী।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’



