চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল-ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ২
চবিতে ছাত্রদল-ব্রাহ্মণবাড়িয়া শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ, আহত ২

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) অধ্যয়নরত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একদল শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশক্তির মুখ্য সংগঠক উলফাতুর রহমান আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহজালাল হলের সামনে দুই দফায় এ সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের সূত্রপাত

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে শহীদ মিনার এলাকায় বড় পর্দায় ব্রাজিল বনাম জাপানের ফুটবল খেলা দেখার আয়োজন করা হয়। সেখানে মার্কেটিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার দিশান ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসেন। এ নিয়ে তার সঙ্গে আবদুল্লাহ আল মামুনের বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে দুইজনের মধ্যে মারামারিও হয়। দিশানের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায়।

দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষ

সোমবারের ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার রাতে শাহজালাল হলের সামনে দিশানসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একদল শিক্ষার্থী মামুনের ওপর হামলা করেন। পরে তারা হলে ঢুকে যান। এ খবরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হলের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় হলে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক শিক্ষার্থী উলফাতুর রহমানকে ফোন করে উদ্ধারের অনুরোধ করেন। উলফাতুর মোটরসাইকেলে করে দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে অন্যত্র নিয়ে যান। এতে ক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাকর্মীরা উলফাতুরকে ঘটনাস্থলে ডেকে এনে গলা চেপে ধরে মারধর করেন বলে অভিযোগ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদেরও লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া কর্মরত সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগও উঠেছে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আহতদের বক্তব্য

ছাত্রদল নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, সোমবার দিশান খেলা দেখার সময় ছাত্রীদের জন্য নির্ধারিত স্থানে বসে ধূমপান করছিলেন। তিনি বাধা দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে মঙ্গলবার রাতে দিশানসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী তার ওপর হামলা করে। তিনি বলেন, ‘আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। আমি কাউকে মারধর করিনি।’

তবে ধূমপানের বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করেন ইফতেখার দিশান। তিনি বলেন, ‘সোমবার রাতে কোনও কারণ ছাড়াই মামুন আমার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানানোর কারণে আমাকে মারধরও করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার রাতে তিনিসহ কয়েকজন শাহজালাল হলের সামনে অবস্থান করছিলেন, পরে মামুনের সঙ্গে আবার বাগবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়।

উলফাতুর রহমান বলেন, ‘গতকাল এক শিক্ষার্থীকে শাহজালাল হল থেকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে নিয়ে গিয়েছিলাম। পরে ছাত্রদলের কয়েকজন আমাকে শাহজালাল হলের সামনে ডেকে নিয়ে গলা চেপে ধরে মারধর করেছে। আমি কোনও অপরাধ করিনি। আমার মোটরসাইকেলের চাবিও তারা নিয়ে গেছে।’

চিকিৎসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পদক্ষেপ

আহত মামুন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভাশীষ চৌধুরী বলেন, ‘আল মামুনের মাথায় আঘাত লেগেছে, মাথা ফোলা ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ উলফাতুরকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হোসেন শহীদ সরওয়ার্দী বলেন, ‘খেলাকেন্দ্রিক মতবিরোধ থেকেই দুই পক্ষের হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং উভয়পক্ষকে আলোচনায় ডাকা হবে।’