আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন লেখক, শিক্ষক, ছাত্র, সাংবাদিক ও বন্ধুসভার সদস্যরা। চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সহযোগিতায় ২৬ জুন বিকেলে জেলা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করে প্রথম আলো ট্রাস্ট।
মাদকবিরোধী স্লোগানে পোস্টার
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিরা মাদকবিরোধী স্লোগানযুক্ত পোস্টার নিয়ে প্রতিবাদ জানান। পোস্টারে লেখা ছিল—‘মাদকমুক্ত সমাজ; সুস্থ জীবনের স্বপ্ন’, ‘নেশা ছাড়ো; দেশ গড়ো’, ‘মাদক গ্রহণে দৈহিক ও মানসিক ক্ষতি হয়’, ‘স্মার্ট তরুণেরা কখনো মাদক নেয় না’, ‘যে নেশা করতে বলে, সে বন্ধু নয়’, ‘মাদককে না বলো—মাদকাসক্তি একটি ব্যাধি’সহ নানা স্লোগান।
বক্তাদের মতামত
প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী তার বক্তব্যে মাদকের ভয়াবহতা ও অপব্যবহার রোধের উপায় উচ্চারিত হয়। মাদকাসক্ত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি অবহেলা ও অপরাধ বোধের পাশাপাশি মাদক নিয়ন্ত্রণে পরিবারের মুখ্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
চট্টগ্রাম প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আজাদ বুলবুল মাদকের উৎপাদন, প্রসার, বিপণন ও গ্রহণের দিকটি নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি সুস্থ সমাজ বিনির্মাণে পারিবারিক সচেতনতা ও চলচ্চিত্র, বিলবোর্ডের মাধ্যমে মাদকবিরোধী প্রচারণা বৃদ্ধিতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
চট্টগ্রাম টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অধ্যাপক শামসুদ্দিন শিশির মাদকের ভয়াবহতা ও ভবিষ্যত হুমকি পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি শিক্ষকসমাজ, পরিবার ও সুশীল সমাজের অংশীজনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
চট্টগ্রাম বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় বিশ্বাস বলেন, ‘শুধু কঠোর আইন প্রয়োগ নয়, মাদকের অপব্যবহার রোধে বিশ্ববিদ্যালয়ে কাউন্সেলিং সেবা, বন্ধুসভার মতো সামাজিক সংগঠনে তরুণদের অন্তর্ভুক্তি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’
বন্ধুসভার উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিন মাদকসেবীর প্রত্যাবর্তন নিয়ে বলেন, ‘মাদকাসক্ত ব্যক্তির প্রতি সমাজের সদয় দৃষ্টি ও পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। পরিবারের ভূমিকাই মুখ্য।’
‘মাদক গ্রহণকারীকে উদ্বুদ্ধ করা, সচেতনতা সৃষ্টি না করার দায়ভার আমাদের সবারও নিতে হবে। সুস্থ ধারার সংস্কৃতিচর্চা লালন করি সবাই। সর্বশেষ, মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন।’ এভাবে বক্তব্যে সোচ্চার হন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সভাপতি রুমিলা বড়ুয়া।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বক্তব্য
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মানজারুল ইসলাম বলেন, ‘মাদক আমাদের শিল্প, চিকিৎসা, গবেষণাকাজে প্রয়োজনীয় উপাদান। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব হবে মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার রোধ করা। এ ছাড়া তরুণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনদের এগিয়ে আসতে হবে।’
পথচারীর অভিজ্ঞতা
এক নারী পথচারী মানববন্ধন চলাকালীন সময় চট্টগ্রাম বন্ধুসভার দপ্তর সম্পাদক সাকিব জিশানকে বলেন, ‘আপনারা ভালো কাজ করতেছেন। মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। আমার স্বামী মাদকাসক্ত। গাড়ি চালায় দিনে, সেটা রাতে এসে নেশায় খরচ করে। আমাকে টাকার জন্য মারধর করে। শান্তি নাই ঘরে। এটা বন্ধ করার উপায় খোঁজেন।’
উপস্থিতি ও সঞ্চালনা
কর্মসূচিতে চট্টগ্রাম বন্ধুসভার উপদেষ্টা ফাহিম উদ্দীনসহ অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সঞ্চালনা করেন চট্টগ্রাম বন্ধুসভার সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান। সমন্বয়কারী ছিলেন পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক শান্ত বড়ুয়া এবং কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফ উল হক।



