বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) মধ্যে প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তি হিসেবে বুধবার বেইজিংয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা দিয়াওয়ুতাইতে এই এমওইউ স্বাক্ষর হয়।
স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
বিএনপির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা এবং বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব (আন্তর্জাতিক বিষয়ক) হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির পক্ষে স্বাক্ষর করেন সিপিসি কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইক্সিং।
এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানি সম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী আনী, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উপস্থিত ছিলেন।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের নতুন অধ্যায়
এই এমওইউ স্বাক্ষরের মাধ্যমে বিএনপি এবং চীনা কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের সূচনা হলো। এটি দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
সমঝোতা স্মারকে দুই দলের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নিয়মিত সংলাপ, মতবিনিময় এবং সহযোগিতার কথা উল্লেখ রয়েছে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং রাজনৈতিক বিষয়ে পারস্পরিক সমর্থন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এই চুক্তির আওতায় দুই দলের মধ্যে নিয়মিত প্রতিনিধি দল বিনিময়, যৌথ সেমিনার এবং কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। বিশেষ করে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে বিএনপির এই উদ্যোগকে কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।



