বিল গেটস তিন নারীর সঙ্গে পরকীয়ার কথা স্বীকার করলেন কংগ্রেসে
বিল গেটস তিন নারীর সঙ্গে পরকীয়ার কথা স্বীকার করলেন

মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক বিল গেটস মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া এক সাক্ষ্যগ্রহণে তিন নারীর সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। বিতর্কিত ও প্রয়াত অর্থদাতা জেফরি এপস্টেইনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে মার্কিন রাজনীতিকদের চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে হাউস ওভারসাইট কমিটির মুখোমুখি হয়ে তিনি এই স্বীকারোক্তি দেন।

রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যগ্রহণের প্রকাশিত অনুলিপি

গত ১০ জুন প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই রুদ্ধদ্বার সাক্ষ্যগ্রহণের একটি অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসার পর বিল গেটসের ব্যক্তিগত জীবনের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। সেখানে তিনি জানান, রুশ বংশোদ্ভূত ব্রিজ খেলোয়াড় মিলা আন্তোনোভা এবং পরমাণু বিজ্ঞানী কারিমা নিগমাতুলিনার সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ছিল। পরে মার্কিন কংগ্রেস সদস্যদের জেরার মুখে তিনি ড. অ্যালিস জ্যাকবস নেসেলরড নামে আরেক নারী বিজ্ঞানীর সঙ্গেও তার তৃতীয় পরকীয়া সম্পর্কের কথা অকপটে স্বীকার করেন।

এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্ক ও ব্ল্যাকমেইলের চেষ্টা

সাক্ষ্যদানকালে সাবেক এই শীর্ষ ধনী জেফরি এপস্টেইনের কোনো ধরনের যৌন নিপীড়নমূলক অপরাধ দেখার কথা স্পষ্ট ভাষায় অস্বীকার করেন এবং তার সঙ্গে সময় কাটানোকে একটি বড় ভুল বলে আখ্যা দেন। তবে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি মেনে নেন যে অজান্তেই হয়তো তিনি এপস্টেইনের কোনো ভুক্তভোগীর উপস্থিতিতে ছিলেন, কারণ সেই সময় বেশ কয়েকজন নারী ও তরুণী এই অর্থদাতার অধীনে কর্মরত ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিল গেটস অভিযোগ করে বলেন, তার এই সম্পর্কগুলোর কথা জানার পর এপস্টেইন তাকে ব্ল্যাকমেইল করার উপায় নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন। মার্কিন বিচার বিভাগ কর্তৃক গত ডিসেম্বর থেকে প্রকাশিত ‘এপস্টেইন ফাইলস’-এর নথির সূত্র ধরে জানা যায়, ২০১৩ সালে এপস্টেইন নিজের একটি নোটে দাবি করেছিলেন যে রুশ নারীদের সঙ্গে সম্পর্কের কারণে বিল গেটস একটি যৌনবাহিত রোগে (এসটিডি) আক্রান্ত হয়েছিলেন এবং স্ত্রী মেলিন্ডাকে গোপনে খাওয়ানোর জন্য অ্যান্টিবায়োটিক চেয়েছিলেন।

সংক্রমণ নিয়ে আশঙ্কা ও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

যদিও বিল গেটস গোপনে ওষুধ দেওয়ার দাবিটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবে সম্পর্কের কারণে কোনো সংক্রমণ হয়েছিল কি না—তা নিয়ে একসময় নিজের মনে গভীর আশঙ্কার কথা তিনি স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এই আশঙ্কার কথা তিনি তার তৎকালীন কর্মচারী এবং এপস্টেইনের সঙ্গে যৌথ বন্ধু ড. বরিস নিকোলিচকে বলে থাকতে পারেন, যদিও পরে তার সেই আশঙ্কা ভুল প্রমাণিত হয়েছিল।

এপস্টেইনের সাথে সাক্ষাৎ ও সম্পর্কচ্ছেদ

বিল গেটস জানান, চার বছরে এপস্টাইনের সঙ্গে তার প্রায় ১২ থেকে ১৪ বার সরাসরি দেখা এবং দুবার স্কাইপে কথা হয়েছিল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন দাতব্য তহবিল নিয়ে আলোচনা করা। তবে ২০১৩ সালের আগস্টে সিয়াটলে তাদের এক মুখোমুখি বৈঠকে ড. নিকোলিচের একটি বিদায়ী প্যাকেজ নিয়ে আলোচনার সময় এপস্টেইন এই সম্পর্কের বিষয়গুলো টেনে তাকে পরোক্ষভাবে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তখন বিল গেটস অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এপস্টেইনকে জানিয়ে দেন যে এসব তথ্য ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে কোনো বাড়তি টাকা আদায় করা যাবে না। নিকোলিচও পরে বিল গেটসের এই সম্পর্কের কথা জানতে পারেন এবং এপস্টেইনের পাশাপাশি তিনিই ছিলেন একমাত্র ব্যক্তি যিনি এই গোপন তথ্য জানতেন।

দাতব্য তহবিলের আশায় যোগাযোগ ও শেষ পরিণতি

২০১১ সালে যখন বিল গেটসের সাথে এপস্টেইনের প্রথম সাক্ষাৎ হয়, তখন তিনি এপস্টেইনের আগের যৌন অপরাধের সাজার কথা জানতেন। তা সত্ত্বেও নিজের বৈশ্বিক স্বাস্থ্য বিষয়ক দাতব্য তহবিলের জন্য বড় অনুদান পাওয়ার আশায় তিনি এই ধনকুবেরের সাথে একটি সীমিত যোগাযোগ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে দীর্ঘ চার বছরেও বড় কোনো অনুদান এনে দিতে এপস্টেইনের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো ব্যর্থ হওয়ায় ২০১৪ সালে বিল গেটস তার সাথে সব ধরনের সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করেন। অন্যদিকে, ড. নিকোলিচও পরবর্তীতে এপস্টেইনের সাথে মেলামেশার জন্য গভীর অনুশোচনা প্রকাশ করে তাকে একজন চরম প্রতারক হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সূত্র: দ্য টেলিগ্রাফ।