সীমান্তে আটকে পড়াদের পাশে বাংলাদেশি দুই বাসিন্দা
সীমান্তে আটকে পড়াদের পাশে বাংলাদেশি দুই বাসিন্দা

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশইনের’ ফলে শূন্যরেখায় আটকে পড়া ভুক্তভোগীদের অসহায়ত্ব ও কষ্ট দেখে তাদের খাবার সরবরাহ করেছে বাংলাদেশি দুই জন। এদিকে সীমান্তে আটকে পড়া ৫০ বছর বয়সী একজন আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘আপনাদের আছে অনুরোধ, আমাদের একটা সুব্যবস্থা করেন। আমাদের জীবনডা একটু বাঁচান’। রবিবার (১৪ জুন) বিকালে স্থানীয় এক বাসিন্দার কাছে তিনি এ আবেদন করেন।

স্থানীয়দের মানবিক সহায়তা

জানা গেছে, গাজিউর রহমান নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা রবিবার বিকালে কৌশলে তাদের কাছে খাবার ও পোশাক পৌঁছে দেন। নিজের মোবাইল ফোনে তিনি তাদের একটি ভিডিও ধারণ করেন। সেখানে আটকে পড়া ব্যক্তিরা আকুতি জানান।

গাজিউর রহমান বলেন, বিকাল ৩টার দিকে তিনি শূন্যরেখার কাছে অবস্থান করা নারী, পুরুষ ও শিশুদের জন্য নতুন পোশাক নিয়ে যান। এ ছাড়া কয়েকটি মশারিও দেন। আরেক বাসিন্দা মিলন আলী তাদের খাওয়ার জন্য একটি বড় পাকা কাঁঠাল দেন। পাশাপাশি রান্না করা খাবার ও শুকনা খাবারও দেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তিনি বলেন, ‘বাচ্চাগুলো খুব কষ্টে আছে। তাদের কষ্ট দেখে খুবই খারাপ লাগছে। এ জন্য ঠিক থাকতে না পেরে মানবিক দিক থেকে তাদের সহযোগিতা করছি।’

ভুক্তভোগীদের বর্ণনা

জানা গেছে, পাটক্ষেতের আলের পাশে একটি শিমুলগাছের নিচে পলিথিনের ওপর ১২ জন এলোমেলোভাবে বসে ও শুয়ে আছেন। গাজিউর রহমানের ধারণ করা ওই ভিডিওতে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা বেহাল অবস্থায় আছি। আমাদের বাচ্চাকাচ্চা প্রায় অসুস্থ। গরমের ভেতর বাচ্চাকাচ্চা নিই টিকতে পারছি না। আপনারা আমাদের একটা ব্যবস্থা করেন। আমাদের জীবন আর সহ্য হচ্ছে না। বাচ্চাকাচ্চা নিই খুবই অসহায়ের মধ্যে আছি। কাপড়চোপড় নাই। খুব দুরবস্থার মধ্যে আছি।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুরোধ জানিয়ে ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের একটা সুব্যবস্থা করেন। আমাদের জীবনডা একটু বাঁচান। আমাদের চাওয়া–পাওয়া কিছু নাই। আমাদের কাছে ডকুমেন্ট আছে সব। আপনারা দেখেন আমরা কী। আমরা এ দেশের নাগরিক না রোহিঙ্গা? আপনারা তদন্ত কইরি দেখেন। আমাদের কাগজপাতি সবকিছু ওকে। আমাদের লোকজন আছে। একটু সুব্যবস্থা করেন।’

সীমান্ত পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

এদিকে পুশইনের চেষ্টার শিকার শিশুসহ ১২ নারী–পুরুষের বিষয়ে এখনও কোনও সুরাহা হয়নি। ৬৩ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিএসএফ পুশইন করেনি বলে দাবি করে তাদের নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। অন্যদিকে বিজিবি বলছে, তারা কখনও পুশইন করে না, তাই কোনও অনুপ্রবেশও হতে দেওয়া যাবে না।

বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন প্রাগপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার আসাদুজ্জামান বলেন, নতুন কোনও তথ্য নেই। ১২ জন এখনও একই জায়গায় আছেন। বিএসএফ গতকাল পতাকা বৈঠকের পর আর কোনও তথ্য জানায়নি। এই ১২ জন ভারতীয় নন বলে দাবি করেছে বিএসএফ।