যুক্তরাজ্যে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য ওকেটিবি (ওকেটিবি), ট্রানজিট ও অন্যান্য নাবিক-সংক্রান্ত ভিসা দ্রুত ও সহজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। একইসঙ্গে বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ, বন্দর উন্নয়ন ও সামুদ্রিক পরিবহন খাতে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) লন্ডনে যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী দ্য রাইট অনারেবল হেইডি আলেকজান্ডারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এসব প্রস্তাব দেন। শুক্রবার (১০ জুলাই) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বৈঠকের শুরুতে শেখ রবিউল আলম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শুভেচ্ছা যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন। তিনি বলেন, “অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সমর্থন নিয়ে বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। সরকার গণতন্ত্র, সুশাসন, জবাবদিহি ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অঙ্গীকারবদ্ধ।”
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক, বন্ধুত্বপূর্ণ ও বহুমাত্রিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী। দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বৈঠকে আন্তর্জাতিক জাহাজে কর্মরত বাংলাদেশি নাবিকদের জন্য ওকেটিবি, ট্রানজিট এবং অন্যান্য নাবিক-সংক্রান্ত ভিসা দ্রুত ও সহজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চান শেখ রবিউল আলম।
ব্রিটিশ বিনিয়োগের আহ্বান
তিনি বাংলাদেশের জাহাজ নির্মাণ, সামুদ্রিক প্রকৌশল, বন্দর উন্নয়ন, সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা এবং বন্দরভিত্তিক শিল্পে ব্রিটিশ বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এসব খাতে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন মন্ত্রী।
জাহাজ পুনর্ব্যবহার শিল্পে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে সরকার হংকং আন্তর্জাতিক কনভেনশন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বৈঠকে উল্লেখ করেন তিনি। মন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ৪২টি জাহাজ পুনর্ব্যবহার ইয়ার্ডের মধ্যে ২৭টি আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে। অবশিষ্ট ইয়ার্ডগুলোকে পর্যায়ক্রমে ওই মানে উন্নীত করার কার্যক্রম চলছে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই সামুদ্রিক পরিবহন
শেখ রবিউল আলম বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন কমাতে আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থার (আইএমও) বৈশ্বিক উদ্যোগকে বাংলাদেশ দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে। বৈশ্বিক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমনের প্রধান উৎস না হলেও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, সবুজ প্রবৃদ্ধি এবং টেকসই সামুদ্রিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করছে।
বৈঠক শেষে যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রীকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান শেখ রবিউল আলম। উভয় পক্ষ পরিবহন, নৌপরিবহন, রেলপথ, বন্দর উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে।



