ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের বৈঠক: পারস্পরিক স্বার্থ ও হরমুজ প্রণালি নিরাপত্তা আলোচনা
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের বৈঠক

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ড. খলিলুর রহমানের বৈঠক: পারস্পরিক স্বার্থ ও হরমুজ প্রণালি নিরাপত্তা আলোচনা

তুরস্কে অনুষ্ঠিত আন্টালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামের ফাঁকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল রবিবার (১৯ জুলাই) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় পক্ষই উপসাগরীয় অঞ্চলের উদ্ভূত জটিল পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গভীর মতবিনিময় করেন।

বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান ও সংলাপের আহ্বান

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চলমান আঞ্চলিক ঘটনাবলী নিয়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি সব পক্ষকে সংযম বজায় রাখা, সংলাপের মাধ্যমে অগ্রসর হওয়া এবং কূটনীতির পথে মতপার্থক্য নিরসনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ বাংলাদেশের এই গঠনমূলক ও শান্তিপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করবেন।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের অনুরোধ

বৈঠকের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ যাতায়াতের বিষয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ জানান যে, সংশ্লিষ্ট দফতরকে কাজে লাগিয়ে এই জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। তিনি বলেন, “আমরা অত্যন্ত কৃতজ্ঞ ছিলাম যখন ইরান বাংলাদেশকে ছয়টি দেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেছিল যাদের জাহাজ হরমুজ পাড়ি দেওয়ার অনুমতি পাবে।” ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি অনুসরণ করেন এবং জানান যে, পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ থাকলেও ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পূর্ববর্তী আলোচনা ও বাংলাদেশের অবস্থানের প্রশংসা

এর আগে, গত ৫ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদীর সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেই সভায় বাংলার জয়যাত্রার পাশাপাশি অপরিশোধিত তেল বহনকারী বাংলাদেশগামী আরেকটি জাহাজের নিরাপদ যাত্রার সুবিধার্থে অনুরোধ করা হয়েছিল। প্রতিক্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত জানান যে, এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যথাযথ পর্যায়ে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ বর্তমান আঞ্চলিক সংকটে বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের প্রশংসা করেন। তিনি প্রয়াত সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার পরে ১৩ তম সংসদের অধিবেশনের উদ্বোধনী দিনে শোক প্রস্তাব গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই পদক্ষেপটি দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এই বৈঠকটি বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের আরও উন্নয়ন এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।