ভ্যান্সের নেতৃত্বে পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধিদল, ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যাচ্ছে ইরানের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনার জন্য। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই আলোচনা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে হবে।
ট্রাম্পের ঘোষণা ও হোয়াইট হাউসের বক্তব্য
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার ‘প্রতিনিধিরা’ সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সন্ধ্যায় ইসলামাবাদ পৌঁছাবে। এর কিছুক্ষণ পরই হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করে যে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে নিশ্চিত করেছেন যে, এই দলে ট্রাম্পের উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারও রয়েছেন। উল্লেখ্য, তারা উভয়েই আগের দফার আলোচনাতেও অংশ নিয়েছিলেন।
ট্রাম্পের পূর্ববর্তী বক্তব্যের বিপরীতে ভ্যান্সের যাত্রা
মজার বিষয় হলো, রোববার (১৯ এপ্রিল) মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন যে, প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ভ্যান্স পাকিস্তানে যাবেন না। ভ্যান্স কেন যাচ্ছেন না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ‘এটি শুধু নিরাপত্তার কারণে। জেডি (ভ্যান্স) চমৎকার মানুষ।’ তবে হোয়াইট হাউসের সর্বশেষ ঘোষণায় এই বক্তব্যের বিপরীতে ভ্যান্সের নেতৃত্বে দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইরানের অবস্থান ও পূর্ববর্তী আলোচনার ফলাফল
এদিকে, ইরান এখনো নিশ্চিত করেনি যে তারা এই আলোচনায় অংশ নেবে কি না। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম স্পষ্ট করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকলে তারা আলোচনায় যোগ দেবে না। এই অনিশ্চয়তা সত্ত্বেও মার্কিন দল পাঠানো হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আলোচনা প্রায় ২১ ঘণ্টা স্থায়ী হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে। নতুন এই আলোচনায় সেই পার্থক্য কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
পাকিস্তানে মার্কিন প্রতিনিধিদলের এই সফর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি সক্রিয় অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে, বিশেষ করে যদি ইরান আলোচনায় বসতে রাজি হয়। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণ ও পূর্বের ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে এই আলোচনার ফলাফল অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।



